বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে হত্যাকারী শেখ হাসিনাকে রাখার জন্য তার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে, এটাকে বাংলাদেশের মানুষ ইতিবাচকভাবে নেয়নি। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, সেখানে আইনের শাসন থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখেছি ভারত আইনের শাসন মানে না। সবসময় আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করে। যারা আন্দোলনকারীসহ শিশু বাচ্চাদের হত্যা করেছে, তাদের কি বিচার হবে না? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রশ্ন রাখতে চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-পুলিশ সদস্যরা মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে শিশু, তরুণ, যুবকদের গুলি করে হত্যা করেছে। অথচ তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?’
গতকাল বুধবার দুপুরে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শহীদ গে-ারিয়া আদর্শ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে রিজভী এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের সবার আগে গ্রেপ্তার করে বিচারে মুখোমুখি করা উচিত ছিল সরকারের। এ সরকার তো রক্তস্নাত সরকার, কারণ শিশু-যুবক-কৃষক-শ্রমিকদের রক্তের ওপর এ সরকার গঠিত হয়েছে। এ সরকারের দায়িত্ব জনগণের আহারের নিশ্চয়তা দেওয়া।’
আনাসের চিঠি পড়ে আপ্লুত হয়ে রিজভী বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এই বাচ্চারা এত উদ্দীপ্ত দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, একটা মহান কিছু আবিষ্কারের জন্য, আদায়ের জন্য। এই বয়সে যে তাদের (ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদরা) এমন সংকল্প হতে পারে, এই চিঠিতে আমি তা পেয়েছি। চিঠি পড়ার পর আমাদের জীবনকে মনে হয়েছে তুচ্ছ, এই আত্মদানকারী বীর শহীদরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আমার মনে হয়েছে, তাদের কাছে আমরা তুচ্ছ। এই নিষ্পাপ ছেলেগুলোকে কেন শেখ হাসিনার পুলিশ হত্যা করেছে? শুধু শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউনূস সরকারকে বুঝতে হবে- কেন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনে সাবান, গুঁড়াদুধ ও ওষুধের দাম বাড়বে? কেন সেগুলোর ওপর ভ্যাট বাড়ানো হবে? এটার জন্যই কি আনাস-জুনায়েদরা রক্ত দিয়েছে? আজ জানুয়ারির ৮ তারিখ, এখনো ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের বই পায়নি। আবার দেখা গেছে প্রিন্টিং মিসটেক, এর জন্য কে দায়ী? মুদ্রণের সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ দোসর দায়ী।’
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের সঞ্চালনায় আয়োজিত আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা আশরাফ বকুল, বিএনপির অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘১৬ বছর শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে তছনছ করে দিয়েছিল। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য হিন্দুস্থানের কাছে নতজানু হয়েছিল। আর এ সবের প্রতিবাদ করতে গিয়েই বিএনপির ওপর নেমে আসত মামলা। সেসব মামলাকে উপেক্ষা করেই আজ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে যদি সমুন্নত রাখতে চান, তাহলে অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। দেশে এরই মধ্যে মইন-ফখরুদ্দীনের চেয়েও কঠিন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এই ষড়যন্ত্র আপনাকে রুখতে হবে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, অপেক্ষা কেবল তারিখের। ৫০ বছরেও নাকি রাজনীতিবিদরা সংস্কার করতে পারেননি। এখন প্রয়োজন রোজার আগেই আওয়ামী সব সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। যদি আমরা ন্যায্য দামে পেঁয়াজ, মুড়ি, কাঁচামরিচ কিনতে না পারি, তাহলে মুগ্ধদের রক্ত দিয়ে কীূ লাভ হলো!’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ, সরাফত আলী সপু প্রমুখ।