পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জা ও ছোট মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন। দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বিচারক।
দুদকের পক্ষে দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।
জীশান মীর্জার আবেদনে বলা হয়, তিনি মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে ১৬ কোটি এক লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে এবং ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে আয়কর অফিস থেকে রেকর্ডপত্র জব্দ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তাহসীন রাইসার আবেদনে বলা হয়, তাহসীন রাইসা ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রাখেন।
ভাইসহ হারুনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ : ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ভাই এ. বি. এম. শাহরিয়ারের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
পৃথক দুটি আবেদনে তাদের আয়কর নথি জব্দের আদেশ চান দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। হারুনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, হারুন অর রশীদ সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
শাহরিয়ারের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, আসামি এ. বি. এম. শাহরিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। আসামি হারুন অর রশীদ বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তার ভাইকে অপরাধে সহায়তা করে দ-বিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।