ক্রমান্বয়ে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। হাড়কাঁপানো শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হওয়ার উপক্রম। এমতাবস্থায় সামর্থ্যবানরা শীতবস্ত্র পরিধান করে শীতের তীব্রতা থেকে কোনোরকম পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেক দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। পথে-প্রান্তরে, কুঁড়েঘরে, খোলা আকাশের নিচে অসংখ্য গরিব-দুঃখী মানুষ শীতবস্ত্রহীন অবস্থায় চরম কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শীতের তীব্রতায় অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের এ দুঃসময়ে তাদের প্রয়োজনমতো শীতবস্ত্র কেনার সক্ষমতা কোথায়? আর যারা ছিন্নমূল, এতিম-মিসকিন, পথে-প্রান্তরে গাছতলা-বাঁশতলায় যাদের নিবাস তাদের জীবন তো তীব্র শীতে বিপন্ন প্রায়। প্রচণ্ড শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে রাস্তাঘাটে, হাট-বাজারে শীতবস্ত্রহীন ছিন্নমূল মানুষের ঘুমানোর চিত্র বড়ই করুণ। শুধু তাই নয়, শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে, পড়ন্ত বেলায় হিমশীতল বাতাসে গ্রাম-বাংলার মেঠোপথে শীতবস্ত্রহীন অসহায় লোকজন ও দুঃখী পরিবারের শিশু-কিশোরদের দুর্বিষহ জীবনযাত্রার করুণ চিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে দুই চোখ।
এমন ক্রান্তিকালে সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও বিত্তবান ব্যক্তিদের উচিত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। গড়ে তোলা দরকার ছিন্নমূল শীতার্ত ও বিপন্ন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের প্রতি কোরআন-হাদিসে ব্যাপক তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে মুখাপেক্ষী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।’ (সুরা জারিয়াত ১৯)। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহম করেন না, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না।’ তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘মানুষের মধ্যে তিনিই উত্তম যিনি মানুষের উপকার করেন।’
আসুন, কোরআন ও হাদিসের মর্মবাণী ধারণ করে মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই, প্রসারিত করি সাহায্যের হাত এবং রচনা করি মানবিক সম্প্রীতির সেতুবন্ধ।