এবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার চতুর্থ আসর। প্রতিবছরের মতো রাজধানীর কুড়িল বিশ^রোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি শাটল বাসের ব্যবস্থা রেখেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তবে অন্য রুটের পরিবহনে ভাড়া নিয়ে রীতিমতো চলছে নৈরাজ্য। ভুলতার গোলাকান্দাইল মোড় থেকে মীরেরবাজার কিংবা কাঞ্চন সেতু এলাকা থেকে কুড়িল উভয় সড়কে সব ধরনের যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ। আবার রাতে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করারও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মেলায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে পাওয়া গেছে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় জনসমাগম অন্য দিনের চেয়ে বেশি। বাস কাউন্টারগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। এ ছাড়া এশিয়ান বাইপাস ও ৩০০ ফুট সড়কে যানজটের কারণে বাস চলাচল বিলম্বিত হয়েছে। এ কারণে অনেককেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ইজিবাইকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। কুড়িল বিশ^রোড থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত লোকাল সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ৪০ হলেও জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে। এ ছাড়া ভুলতা থেকে কাঞ্চনের ভাড়া ৩০ টাকা হলেও সেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। অথচ সন্ধ্যার পর সেই ভাড়া হয়ে যায় তিন থেকে চারগুণ। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
ভুলতা এলাকার বাসিন্দা ইমন রহমান বলেন, ‘শুক্রবার ভিড় হবে চিন্তা করে আজ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসেছিলাম। কিন্তু আজও অনেক ভিড়। ফেরার পথে কাঞ্চন থেকে সিএনজিঅটোরিকশার চালক আমার কাছে সাড়ে ৩০০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। অথচ এ পথের ভাড়া ১৫০ টাকা। কোনো গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।’
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছিলেন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি অফিসে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করি। কয়েক মাস হলো নতুন বিয়ে করেছি। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছি। নতুন সংসার, তাই কিছু গৃহস্থালির পণ্য কিনলাম।’
মেলার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। আমাদের বিক্রিও অনেক ভালো হচ্ছে। তবে যানজটের কারণে মেলায় আসতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার মিয়া বলেন, ‘স্থায়ী প্যাভিলিয়ন দেখতে আমাদের এলাকার লোকজন ছাড়াও বাইরের জেলার লোকজন আসছেন। আবার আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও যাতায়াত করতে হয়। তবে সড়কে সব ধরনের যানবাহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেটি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।’
কাঞ্চন থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াতকারী সোহেল মিয়া বলেন, ‘মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী হয়। তাই সুযোগ বুঝে স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা মনমতো ভাড়া আদায় করছেন। বিআরটিসি বাসের ভাড়াও জায়গা অনুসারে ১০-২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।’
মেলায় আসা সুমনা আক্তার বলেন, বিআরটিসি বাস কাউন্টারে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা নেই। টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে হয়রানির শিকার হতে হয়। এ ছাড়া পথে সিএনজি অটোরিকশাগুলো মনমতো ভাড়া আদায় করছে।
রাজধানীর রামপুরা থেকে আসা ব্যবসায়ী সাব্বির ভূঁইয়া বলেন, ‘মেলা কর্তৃপক্ষ বিআরটিসি বাসের ভাড়া কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে সিএনজিঅটোরিকশা চালকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া আদায় করছেন।’
মেলার গেটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকে উপেক্ষা করে শুক্রবারের মতো ছুটির দিনে আজও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক লাখের বেশি লোকের সমাগম হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এ বছর ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীদের সমাগম বেশি তাই যানজট হচ্ছে কিছুটা। তবে পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন।