গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে এবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় রাখা হয়েছে ‘জুলাই চত্বর’ ও ‘ছত্রিশ চত্বর’। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে মেলায় তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এ দুই চত্বর। মেলার পূর্বপাশে জুলাই চত্বর। মেলার মূল ভবনের পেছনে ছত্রিশ চত্বর। সেখানে তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার দেখা গেছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের নানান গল্প ও ছবি সম্মিলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দিয়ে সাজানো হয়েছে জুলাই ও ছত্রিশ চত্বর। স্থান পেয়েছে আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধসহ আন্দোলনে শহীদদের নানা কথা, তথ্য ও ছবি। রয়েছে ওই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের ক্যাটিং নিয়ে তৈরি ব্যানার। দর্শনার্থীরা সেগুলো দেখছেন এবং ছবি তুলছেন। এ ছাড়া দেশের তরুণ সমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন। সেখানে রপ্তানি বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য সহায়তা এবং পরামর্শ পাচ্ছেন তরুণরা।
গতকাল ছুটির দিন না হলেও মেলায় ছিল দর্শনার্থীদের সমাগম। ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্যের স্টলগুলোয় ভিড় বেশি ছিল। এশিয়ান বাইপাস ও গাজীপুর বাইপাস সড়কে গতকালও ছিল যানজটের প্রকোপ।
হারুনুর রশীদ নামে এক তরুণ বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মরণে মেলায় এমন আয়োজন প্রশংসনীয়। খুব ভালো লাগছে এখানে এসে। এখানে ফাইয়াজ, আবু সাইদ ও মুগ্ধসহ ছাত্র আন্দোলনে শহীদ অনেকের নাম দেওয়া প্ল্যাকার্ড রয়েছে।’
নাজমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের তো আর পাব না। কিন্তু তাদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবিগুলো স্মৃতি করে রাখতে এসেছি। আমরা তরুণ সমাজ চাইলে পুরো দেশটাকেই বদলে দিতে পারি।’
কোনাপাড়া এলাকা থেকে তার দুই ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছেন আশিকুর রহমান হান্নান। তিনি বলেন, ‘জুলাই আমাদের প্রেরণা। এ কারণে দুই ছেলেকে জুলাই চত্বরে নিয়ে এসেছি। যাতে ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের সম্পর্কে তারা জানতে পারে।’
ইমাদ আকাশ বলেন, ‘তরুণ সমাজ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, জুলাই অভ্যুত্থান এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য। প্রতিবছর যেন এমন আয়োজন থাকে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের এই আত্মত্যাগের কথা কখনো না ভোলে।’
জুতা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘ছুটির দিন ছাড়াও মেলায় দর্শনার্থী হচ্ছে। আমাদের বিক্রিও অনেক ভালো হচ্ছে। মেলা এভাবে জমে উঠলে আমাদের লোকসান হবে না আশা করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা হারেজ মিয়া বলেন, ‘মেলায় জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বরে তরুণ প্রজন্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে। তরুণরাই আমাদের দেশের সম্পদ।’
গেট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা জমে উঠেছে।’
ইপিবির সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, ‘জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের সম্মানার্থে করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম আমাদের দেশের সম্পদ। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি হলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’