সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র বা মদদদাতার তালিকা থেকে কিউবাকে বাদ দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্দিমুক্তি চুক্তির অংশ হিসেবে কিউবার ওপর থেকে এই তকমা সরিয়ে নিতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে বৈদেশিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন জো বাইডেন। তারই অংশ হিসেবে ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার আগমুহূর্তে কিউবা নিয়ে এলো এমন সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন অপরাধে আটক ৫৫৩ কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা। মুক্তি পেতে যাওয়া এসব বন্দির বিস্তারিত তথ্য না দিলেও, ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে চার বছর আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও থাকবেন। বাইডেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে কিউবা। দেশটির ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে বাঁচাতে এ পদক্ষেপ সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত থাকার কারণে কিউবায় বড় ব্যাংক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
উনিশ শতকের ষাটের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক শীতল হতে থাকে। ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো কিউবাকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় তালিকা থেকে দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিজের প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে সহায়তার অভিযোগ এনে কিউবাকে ফের সেই তালিকায় যুক্ত করেন ট্রাম্প।
আগামী ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবাবিরোধী হিসেবে পরিচিত।