যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান কখনোই হত্যার চক্রান্ত করেনি বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এ সময় ট্রাম্পকে হত্যায় তেহরানের সম্পৃক্ততাবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে পেজেশকিয়ান বলেন, একদমই না। আমরা আগেও এমন কিছু করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে সাইবার কার্যক্রমের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও এনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। উল্টো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরেই তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছে ইরান। ট্রাম্পকে কথিত গুপ্তহত্যার চক্রান্তে জড়িত থাকার সন্দেহে গত নভেম্বরে এক ইরানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগে বলা হয়, ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস ওই হত্যার আদেশ দিয়েছিল। গত বছর ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার অভিযোগ করে বলেছেন, তাকে হত্যা চেষ্টায় ইরানের যোগসাজশ থাকতে পারে।
গত ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় লাভ করে হোয়াইট হাউজে সামনে সোমবার ফিরে আসছেন ট্রাম্প। প্রচারণার সময় দুবার হত্যাচেষ্টার শিকার হন তিনি। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সেপ্টেম্বরে গলফ খেলাকালীন এক বন্দুকধারীর সম্ভাব্য হামলা রুখে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এর আগে জুলাই মাসে, পেনসিলভানিয়ার বাটলারে আয়োজিত এক জনসভায় তাকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া গুলিতে আহত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনায় ইরানের হাত থাকার অভিযোগ করলেও তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি।
এদিকে, এক হাজার উচ্চপ্রযুক্তির নতুন ড্রোনের পর এবার নৌবাহিনীর বহরে প্রথমবার গোয়েন্দা জাহাজ যুক্ত করেছে ইরান। গতকতাল বুধবার ইরানের আধা-রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম এ খবর জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে জ্যাগরস নামে নতুন এই সামরিক বাহনে উচ্চপ্রযুক্তির বৈদ্যুতিক সেন্সর রয়েছে। ফলে এই জাহাজের মাধ্যমে সাইবার হামলা ঠেকানো এবং গোয়েন্দাবৃত্তি নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে।