বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকার জাতির ভাগ্য বদলের জন্য নয় নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য এসেছিল। ১৫ বছরে নিজেরা তাজামোটা হয়েছে। দেশের জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি। দিয়েছিল শুধু ছোপ ছোপ রক্ত এবং কাঁড়ি কাঁড়ি লাশ। দেশের এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে তারা হত্যাকাণ্ড চালায়নি। এমনকি ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মাগুরার ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, এই দেশে এমন একটি সরকার ছিল যারা গায়ের জোরে দেশ চালাচ্ছিল। যারা মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছিল। কষ্ট পেলে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারত না, ভালো লাগলে হাসতে পারত না। মানুষের মুখে একটা অদেখা তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারা জনগণকে সম্মান করতে পারেননি। ভালোবাসতে পারেননি। জনগণকে দেওয়া কথা তারা রাখতে পারেননি। জাতিকে দেওয়া একটা ওয়াদাও তারা বাস্তবায়ন করেননি।
মাগুরা জেলা আমির অধ্যাপক এম বি বাকেরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, মাগুরার সাবেক আমির ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা জামায়াতের সাবেক জেলা আমির ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে তারা ২৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে। এসব টাকা জাল ফেলে তন্নতন্ন করে খুঁজে দেশে ফেরত আনতে হবে। ভবিষ্যতে এ দেশের কোনো বিচারক-সরকারি কর্মকর্তা ঘুষের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস পাবে না। যদি কেউ হাত বাড়ায় তার হাত ভেঙে অবশ করে দেওয়া হবে। ঘুষের দিন শেষ।
এদিকে গতকাল সকালে মাগুরা জনসভায় যাওয়ার পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের মধুখালী আখচাষি কল্যাণ ভবনের সামনে উপজেলা ও পৌর জামায়াতের আয়োজনে পথসভা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো বিকল্প নেই। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ইসলামের ছায়াতলে আপনারা আসুন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা যেন সবাই মিলেমিশে স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। বাংলাদেশ আমাদের সবার জন্মভূমি। আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছি।