বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত ক্রমাগতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, অপতথ্য দিয়ে কলঙ্ক লেপন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কোনোভাবেই স্থির হতে পারছে না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত ক্রমাগতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, অপতথ্য দিয়ে কলঙ্ক লেপন করে যাচ্ছে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ এটা করছে না। অত্যন্ত অস্থির হয়ে গেছে তারা শেখ হাসিনার জন্য।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ উদ্যোগে বাড্ডা-রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় আন্দোলনে শহীদদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে আট শহীদ ও আহত পাঁচজনের পরিবারের প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন রিজভী। অনুষ্ঠানে শহীদদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনুদান এবং আহত পাঁচজনকে চিকিৎসা সহায়তা ও হুইলচেয়ার দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব প্রমুখ।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইউম, নির্বাহী কমিটির সহঅর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ জিএম শামসুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তুষার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, সাবেক সহসভাপতি জামিল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর রহমান, বেসরকারি ইউনিভার্সিটি ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা মিসবাহ, বাড্ডা-ভাটারা থানা বিএনপির নেতারা।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, ‘এদেশের তরুণ-ছাত্র-জনতার এই আত্মদানের ঢেউ যেন গোটা বিশ্বজনতাকে এক ধরনের চমক দিয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ অপতথ্য দিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ নাকি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। কোথায় অত্যাচার হচ্ছে? অত্যাচার তো করছেন আপনারা। দিল্লিতে জুমার নামাজ আদায়ের সময়ে পুলিশ দিয়ে মুসল্লিদের আঘাত করা হয়েছে। তাদের লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর যত অত্যাচার-অবিচার-অনাচার ওটা তো হয় ভারতেই, বাংলাদেশে হয় না। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান হাতে হাত ধরে ঘোরাফেরা করে। অথচ আমাদের সেই মহান ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার জন্য ভারত থেকে বারবার আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য দেওয়া হচ্ছে। যখন তারা দেখল এটা করেও লাভ হচ্ছে না, এখন তারা কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া যে আপনারা দিচ্ছেন বাংলাদেশের বিজিবির সঙ্গে কী আলোচনা করেছেন? কোথায় কীভাবে দেবেন? আপনারা যা দেখেন যা করেন সেটা করেন আধিপত্যবাদী চিন্তা চেতনা থেকে।’
ভারতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের স্বার্থ শেখ হাসিনা দেখতেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সে দেখতেন না। কারণ শেখ হাসিনা জানতেন অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে তিনি কোনোদিনও জিততে পারবেন না। সেই কারণে শেখ হাসিনা সব সময় দিল্লির একটা শেল্টার চেয়েছেন। তিনি নিজেই তো বলেছিলেন ভারতকে আমি যা দিয়েছি ভারত সারা জীবন মনে রাখবে। এই কারণেই আজকে ভারতের নীতিনির্ধারক, কিছু রাজনৈতিক দল অত্যন্ত অস্থির হয়ে গেছে শেখ হাসিনার জন্য।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্ষমতা নিয়ে আসতে হবে। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন যেটি আটকে দেওয়া হয়েছিল, সেটির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই সামনের দিনে যা কিছু করার দরকার সেইটা আপনাদের করতে হবে।’