ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটের যেন কোনো শেষ নেই। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও কাঁচাবাজারের দখলে পুরো মহাসড়ক। দেখার যেন কেউ নেই।
প্রশাসনের নাকের ঢগায় বসে মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা , অবৈধ ফলের দোকান ও কাঁচাবাজার রীতিমত স্ট্যান্ড ঘেরে বসেছে। এটি প্রতিদিনের চিত্র। এ গুলোর কারণে যানজট আর জনদুর্ভোগ চরমে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও কাঁচাবাজারের কারণে চারলেনের মহাসড়ক এখন দুইলেনে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে লোকাল শালবন বাসের কাউন্টার। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের নিচদিয়ে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটার চালিত অটোরিকশা পুরো সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশে সরকারি কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের সামনে সারি করে বসানো হয়েছে ফলের দোকান, শাক-সবজি ও মাছের বাজার।
এতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। আবার এখানে ট্রাফিকের দায়িত্ব আছেন একজন। তাকেও পাওয়া যায় না সব সময়। ফুটওভার ব্রিজের নিচে কিছুক্ষণ পরপর দেখামিলে টহল পুলিশের একটি গাড়ি। তারাও অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকশার পাশে তাদের গাড়িও দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এসব অবৈধ বাজারের ময়লাও ফেলে রাখা হয়েছে মহাসড়কের পাশে। এতে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ। আবার ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে চলাচলের রাস্তায় দোকান বসার ফলে দুর্ভোগের মাত্রা চরমে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রবণতাও বাড়ছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পৌর শহরের দরিরামপুর বাসট্যান্ডে কাঁচাবাজার, ফলের দোকান ও থ্রি-হুইলার স্ট্যান্ডের কোনো অনুমোদন নেই। এটি প্রভাবশালী মহল টাকার বিনিময়ে বসিয়েছে। এর সাথে অনেকেই জড়িত। মহাসড়কের ওপরই ইজারাবিহীন এই বাজার চলে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা।
গত ১৪ জানুয়ারি এই মহাসড়কের দেখামিলে ভিন্নচিত্র, সকাল থেকেই পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নেই কোনো অবৈধ থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, কাঁচাবাজার। ট্রাফিক পুলিশসহ থানা পুলিশ কোনো পরিবহন দাঁড়াতে দিচ্ছেন না। কারণ হিসেবে জানাগেল ভিআইপি আসছেন তাই এত আয়োজন। আবার ভিআইপি চলে গেলে পুরনো রুপেই ফিরে আসে।
উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে এগুলো অপসারণ করলেও দুই একদিন পর আবার আগের রুপেই ফিরে আসে। দায়িত্বরত পুলিশের সামনেই অবৈধ থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, কাঁচাবাজার বসে আছে। যেন কারও কিছু বলার নেই।
স্থানীয় ইমরান হাসান, হারুন অর রশিদ, আলিমুল রাজীব, আবু রায়হান বলেন, অবৈধ থ্রি-হুইলার ও বাজারের কারনে মহাসড়কের এ অংশে যানজট লেগেই থাকে। প্রশাসন চাইলেই সব সময় সড়ক ক্লিয়ার রাখতে পারে। থ্রি-হুইলারের তো মহাসড়কে চলাচল করার অনুমোদন নেই। প্রশাসনের লোকদের মেনেজ করেই তারা চলছে। শুনেছি এই ব্যস্ত সড়কে তারা স্ট্যান্ড করেছে প্রশাসনকে মাসিক প্রত্যেক সিএনজি টাকা দেয়। মাঝে মধ্যে নতুন নতুন প্রশাসন আসেন তখন অপসারণ করে দেন আবার কয়েকদিন পর আবার এগুলো বসে। এমনই দেখছি বহু বছর ধরে। আমাদের সবারই এগুলো দেখতে দেখতে সইয়েই গেছে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহম্মদ বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও কাঁচাবাজার অপসারণ করা হয়েছিল। তারা পুনরায় আবারো বসেছে। আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও পারছি না। যদি স্থানীয়রা সহযোগিতা না করে। নতুন ইউএনও স্যার এসেছে উনার সাথে কথা বলে আবার অপসারণ করবো।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সামনের সপ্তাহে ওসি সাহেবকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।