সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি রিসোর্ট ঘেরাওয়ের পর ১৬ তরুণ-তরুণীকে আটক করে ৮ জনকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার ঘটনার নেপথ্যে চাঁদাবাজির যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, চাঁদা না দেওয়ায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে গত রবিবার দুপুরে দলবেঁধে সেখানে যান। তারা রিসোর্টে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন এবং বিভিন্ন কক্ষে অবস্থানরত তরুণ-তরুণীদের আটক করেন।
এদিকে এভাবে আটক এবং কাজী ডেকে এনে জোরপূর্বক বিয়ে পড়ানোর ঘটনা আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। রিসোর্ট মালিক জানিয়েছেন, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে তার প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার মোগলাবাজারের সিলাম এলাকায় অবস্থিত রিজেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ বেশ পুরনো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালীদের খুশি রেখে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই রিসোর্টের অনৈতিক ব্যবসায় ভাগ বসাতে তৎপর হয়ে উঠেন। রিসোর্ট মালিকও বলেছেন তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল।
রিসোর্টটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ সরাসরি না এসে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এটি করানো হয়েছে। যারা চাঁদা দাবি করেছিলেন তারা রবিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে সিলাম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কাজ হয়। এটা জানতে পেরে রবিবার দুপুর ২টার দিকে তারা সেখানে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মোগলাবাজার থানা পুলিশ।
পরে এলাকার মুরুব্বিরা আটক তরুণ-তরুণীদের অভিভাবকদের খবর দেন। এ সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সিলেট জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব তাজরুল ইসলাম তাজুলও সেখানে ছিলেন। তিনি আটক তরুণ-তরুণীদের বিয়ে পড়িয়ে দিতে কাজী ডেকে আনার ব্যবস্থা করেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রিজেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে প্রথমে রিসোর্টে ঢুকে ভাঙচুর করা হয়। পরে আগুন দেয়। এতে আমাদের রিসোর্টের ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় এসেছি। তবে এলাকাবাসী ঘটনার সমাধান করতে চাচ্ছেন, দেখা যাক কি হয়। রিসোর্ট বর্তমানে বন্ধ।’
চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা তাজরুল ইসলাম তাজুল বলেন, ‘আমি এলাকার একজন হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। মালিকপক্ষ আমাকে ফোন করে রিসোর্টে নিয়েছিলেন। চাঁদা দাবির বিষয়টি আমার জানা নেই।’
সিলেটে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে পুলিশ আটক করবে, আদালত বিচার করবে। কিন্তু আটক করে বিয়ে পড়ানোর কোনো আইন নেই।’
এ প্রসঙ্গে সিলেট মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শিরিন আক্তার বলেন, ‘এরকম ঘটনা আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছায় যেকোন জায়গায় বেড়াতে যেতে পারে। বেড়াতে গিয়ে অসমাজিকতা করলে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে। কিন্তু জোরপূর্বক বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।’