সুইজারল্যান্ডে ইসলাম

সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে স্পেন বিজয়ের পর মুসলমানদের একটি অংশ পশ্চিম ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।  অতঃপর মুসলমান বণিকরা সময়ের পরিক্রমায় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় যান এবং স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। তাদের উপস্থিতির ফলে সেখানে ধীরে ধীরে ইসলামি সমাজ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তী সময়ে দেশটির ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক মুসলমান সুইজারল্যান্ডে গিয়ে বসবাস শুরু করে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনেক মুসলমান দেশটিতে পাড়ি জমায়। মুসলমান দাঈরা সুইস মানুষের মধ্যে ইসলাম প্রচার করায় অনেক মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়। তাদের ইসলাম প্রচারের কাজ অব্যাহত থাকে। ফলে দিন দিন মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলমানরা প্রবাসী হিসেবে এসেও সুইজারল্যান্ডে বসতি স্থাপন করে। ১৯৫১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ব্যাপকহারে মুসলিম নাগরিক বৃদ্ধি পায়। ১৯৮০ সালে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার, তা ১৯৯০ সালে বেড়ে হয় প্রায় তিন গুণ। বর্তমানে দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ৪ লাখ। এর মধ্যে ৮৮.৩ শতাংশ প্রবাসী মুসলিম। প্রবাসীদের ৬০ শতাংশ সাবেক যুগোসøাভিয়ার নাগরিক (বিশেষ করে বলকান ও কসোভার নাগরিক), ৬ শতাংশ তুরস্ক ও ৫ শতাংশ আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আগত। মুসলমানদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় অধিবাসী। সুইজারল্যান্ডে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৭২ সালে সুইজারল্যান্ডে ইসলামি সংগঠন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সংগঠনের একটি বিধিমালা তৈরি করা হয়, যা পরবর্তী সময় সুইস সরকারের অনুমোদন লাভ করে। এই সংগঠনের কমিটি সুইজারল্যান্ডে মসজিদ ও ইসলামি সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন পায়। সৌদি আরবের বাদশাহ কিং ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজ আস-সৌদ ১৯৭৩ সালে সুইজারল্যান্ড সফর করেন। তিনি ইসলামি সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেন্টারের মসজিদটি বেশ বড় এবং এখানে কয়েকশ মুসলমানের একত্রে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা আছে। সেন্টারে একটি লাইব্রেরি, একটি ইসলামি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুসলিম ছেলে-মেয়েদের এখানে বিনা খরচে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

বর্তমান ইউরোপের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এটি দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ১৫ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা সুইজারল্যান্ডের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।