তাতারস্তানের আরস্কে কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র

তাতারস্তান রাশিয়ান ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রজাতন্ত্র। এখানে ইসলামের চর্চা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। সম্প্রতি তাতারস্তানের ঐতিহাসিক শহর আরস্কে এক নতুন কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি আরস্ক জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই শিক্ষাকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাতারস্থানের মুফতি কামিল হজরত সামিগুলিনসহ বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১১ জুলাই। ১৮ মাসের কম সময়ে এটি সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক ও কায়িক সহযোগিতা, আরস্ক জেলা প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাতারস্তানের বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। কেন্দ্রটির লক্ষ্য হলো ইসলামি শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কোরআনের গভীর জ্ঞান ও শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্যোগ আরস্কের ইসলামি ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রদানেও ভূমিকা রাখবে।

কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি আরস্কের গাবদুননাসির কুরসাভি মসজিদের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘চিশমা’ ঝরনার সংস্কার কাজও সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দাতাদের আর্থিক সহায়তায় ঝরনাটি নতুনভাবে সাজিয়ে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।

‘মুহতাসিবাত’ নামে এক সংগঠন এই অঞ্চলের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বর্তমানে তারা ৯৪টি মসজিদ পরিচালনা করছে, যেখানে ১৩৮ জন প্রশিক্ষক মুসলমানদের ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি শেখাচ্ছেন। এ ছাড়া গাবদুল্লা তুকায় তিন বছর আগে কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়, বর্তমানে এখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে ১৭ জন দক্ষ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তাতারস্তান রাশিয়ার একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র, যেখানে উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী মুসলিম। আর আরস্ক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা কাজান শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নতুন এই কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা তাতারস্তানের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় অর্জন। এটি ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কেন্দ্রটি শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থানীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

 সূত্র : তাতার-কনগ্রেস ডট ওআরজি