ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বেড়েছে উত্তেজনা। সীমান্তের একাধিক জায়গায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উদ্যোগে বাধা দিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। এর মধ্যে ভারতের মালদা ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সংঘাতে জাড়ায় দুই দেশের নাগরিকরা। সে বিষয়টি উল্লেখ করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল মঙ্গলবার মালদা সফরে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের বললেন, ‘বাংলাদেশিদের সঙ্গে বিএসএফের বচসা হলে তাতে আপনারা জড়াতে যাবেন না’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওপার বাংলায় একটু সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু বর্ডার দেখার দায়িত্ব বিএসএফ-এর। যদি এখানে কোনো অন্যায় হয় আমরা দেখে নেব। কিন্তু বিএসএফের সঙ্গে ওদের বচসা হলে আপনারা সেখানে যাবেন না। পুলিশকে বলব, মাইকে ঘোষণা করে ভারতের লোকজনদের সেখান থেকে সরে আসতে বলবেন।
বাদবাকি প্রশাসন দেখে নেবে। আমি বিশ্বাস করি, এক দিন হয়তো আমাদের সম্পর্ক আবার ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু লক্ষ রাখবেন, কোনো সমাজবিরোধী বাজিঙ্গ যাতে কারও বাড়ি বা হোটেল ভাড়া নিয়ে বাসা না বাঁধতে পারে। কোনো সমাজবিরোধী যেন এখানে ঘুঘুর বাসা বানাতে না পারে। তাহলে তা দেশের ক্ষতি, সমাজের ক্ষতি, রাজ্যের ক্ষতি। শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
গত ১৮ জানুয়ারি মালদায়-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশিরা চড়াও হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রুখে দিয়েছিল বিএসএফ। তবে মালদার সুকদেবপুরে এখনো পরিস্থিতি থমথমে। এই আবহে গ্রামবাসীদের সীমান্তের দিকে যাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গ্রামবাসীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসএফ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএসএফের ১১৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা টানা টহল দিয়ে চলেছেন সীমান্ত এলাকায়।