নিজ স্বার্থ হাসিলে রাখাইনে চোখ চীন-ভারতের

কয়েক বছর ধরেই সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের মধ্যে সংঘাতে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। দীর্ঘ এই সংঘাতে বিদ্রোহীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা বাহিনী। দেশটিতে চলমান এই গৃহযুদ্ধের মধ্যেও নিজেদের স্বার্থ হাসিলে প্রতিযোগিতা করছে চীন ও ভারত। বিশেষ করে খনিজসম্পদে পরিপূর্ণ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে দুই দেশের মধ্যকার প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবে কায়াকপায়ু প্রকল্পের কাজ চলছে। যার অধীনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলমান। এটি চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের অংশ, যা চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ তৈরি করবে। বুধবার মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, এ দুটি প্রকল্প নিয়ে জান্তা সরকার গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানী নেপিদোতে চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জান্তার বিনিয়োগমন্ত্রী কান জাও আন্তঃসমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প শেষ করার আহ্বান জানান।

রাজ্যটিতে চীনের উদ্যোগের প্রভাব ঠেকাতে ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ কালাদান প্রকল্প। চীনের সঙ্গে জান্তা সরকারের বৈঠকের দুই দিন পর রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ে সফর করেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় ঠাকুর এবং ইন্ডিয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের প্রতিনিধিরা। সেখানে ভারতীয় অর্থায়নে চলমান কালাদান মাল্টি-মডাল ট্রানজিট করিডর প্রকল্পের অধীনে তৈরি সিতওয়ে বন্দরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতা থেকে সিতওয়ে বন্দর পর্যন্ত সমুদ্র সংযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সিতওয়ে থেকে কালাদান নদী হয়ে মিয়ানমারের চিন প্রদেশের পালেতওয়া পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন এবং সেখান থেকে সড়কপথে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে যুক্ত হওয়ার কথা।

সিতওয়ে, কায়াকপায়ু এবং রামরি এ তিনটি শহর ছাড়া রাখাইনের বাকি ১৪টি টাউনশিপ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিতওয়ের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সফর চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।