কেরানীগঞ্জের আগানগরের নাগর মহল ঘাট থেকে রাজধানীর নবাববাড়ি ঘাট এবং কেরানীগঞ্জের তৈলঘাট থেকে রাজধানীর শ্যামবাজার ঘাটে চারটি ওয়াটার বাস দিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। এরপর থেকে ওই দুই রুটে দৈনিক হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হতেন। কিন্তু তিন মাস আগে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে এই সার্ভিসটি। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি নৌকায় পারাপারের ক্ষেত্রে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই চালু হবে এই সার্ভিসটি। যাত্রীরা আবারও নদী পারাপারে ওয়াটার বাস সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, বুড়িগঙ্গায় যাত্রী পারাপার নৌদুর্ঘটনারোধে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করে বিআইডব্লিউটিসি। তবে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত অক্টোবর মাস থেকে বন্ধ হয়ে যায় ওটারবাস সেবা।
সরেজমিনে ওয়াটার বাস ঘাটগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, পন্টুনগুলোয় নেই কোনো ওয়াটার বাস। পন্টুনে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ভিড়ানো রয়েছে। পন্টুনের পাশেই নদীর দুই তীর থেকে চলাচল করছে ডিঙি নৌকা। কিছুটা এগিয়ে বাদামতলী স্টিমার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াটার বাসগুলো স্টিমার ঘাটে বাঁধা রয়েছে। ধুলা-ময়লা জমে জীর্ণ অবস্থা এক-একটা ওয়াটার বাসের।
ওয়াটার বাসসেবা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তি বেশি। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. ইকবাল বলেন, ‘আমার বাচ্চা সাঁতার জানে না। ওরে নিয়া আমি নির্ভয়ে ওয়াটার বাসে নদী পার হতাম। এখন নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হতে হয়। যেভাবে নদীতে ট্রলার বাল্কহেড চলে, ভয় লাগে অনেক। শুনলাম, গতকালও এই ঘাটে মাঝ নদীতে খালি নৌকা ডুবেছে।’
কবি নজরুল কলেজের ছাত্রী শ্রাবণী আক্তার জানান, কলেজে যাওয়ার জন্য আগে ওয়াটার বাস ব্যবহার করতেন। ওয়াটার বাস না থাকায় বাধ্য হয়েই তিনি ছোট নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।
বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ বলেন, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ইজারার আশায় বন্ধ না করে কার্যক্রম চালু রেখেই ওয়াটার বাস চালালে কী এমন ক্ষতি হতো বিআইডব্লিউটিসির?
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) এসএম আশিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন দরপত্রের কার্যক্রম শেষপর্যায়ে আছে। যারা নতুন করে ওয়াটার বাসের দরপত্র পেয়েছে, তারা এখনো আমাদের কাছে কোনো টাকাপয়সা জমা দেয়নি। টাকাপয়সা জমা দিলেই আমরা ওয়াটার বাস তাদের কাছে হস্তান্তর করব। এরপর থেকেই আবারও যাত্রীরা ওয়াটার বাস দিয়ে নদী পারাপার হতে পারবেন।’