শেখ হাসিনার ‘হেইট স্পিচ’ প্রচার না করার আহ্বান

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্বেষপূর্ণ বা ঘৃণাসূচক বক্তব্য (হেইট স্পিচ) প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালে যার বিচার প্রক্রিয়া চলছে, আসামি শেখ হাসিনা, তার ব্যাপারে একটা আদেশ হয়েছিল যে, তার হেইট স্পিচ বা ঘৃণাসূচক বক্তব্য, সাক্ষীকে ভয়ভীতি ছড়ানো বক্তব্য যাতে প্রচার না হয় বা ডিলিট করা হয়। এটা সত্ত্বেও আমরা লক্ষ করছি, আমাদের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, এই আসামি (শেখ হাসিনা) বিদেশের মাটিতে বসে নানা ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে এই সরকার, এই মামলার প্রক্রিয়া এবং মামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাক্ষীদের ব্যাপারে উস্কানি ও ঘৃণামূলক বক্তব্য রেখে চলেছেন, যেটা এই মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে তিনি (শেখ হাসিনা) এই বিচারটাকে বানচাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। আমরা এ বিষয়গুলো নজরে রাখছি। এটা আদালতের আদেশ অমান্য করে তিনি করছেন, সেটাও নজরে রাখছি। ভবিষ্যতে এগুলো নোটিসে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গণমাধ্যমকে আমরা অনুরোধ করব, ঘৃণাসূচক বক্তব্য যেটা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সেগুলো প্রচারে আপনাদের পক্ষ থেকে যেন ফ্যাসিলিটেড করা না হয়। কারণ আমাদের সবার লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু এ ধরনের হুমকি, ধামকি, ফিরে আসছি, দেখে নেব এগুলো যদি করা হয় তাহলে হয়তো সাক্ষীরা ভয় পেতে পারেন বা তারা সাক্ষ্য দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সেজন্য আমরা ন্যায়বিচার সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছি।’

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে তার যেসব বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও বিবৃতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে তা তাৎক্ষণিক অপসারণের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।