লিবিয়ায় দালাল চক্রের নির্যাতনের মাদারীপুরের রাকিব মহাজন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের নাজিম উদ্দিন মহাজনের ছেলে রাকিব তিন বছর আগে ২৭ লাখ টাকার বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। দালালচক্র তাকে নিয়ে রাখে লিবিয়ায়। এরপর নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে। রাকিবকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা আদায় করে ওই দালাল চক্র। আট মাস আগে ওই চক্রের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আরেক দালালের হাতে পড়েন রাকিব। ইতালি পৌঁছাতে নতুন চক্রকে দেন আরও ১৫ লাখ টাকা। এরপর অপেক্ষা করতে থাকেন ইতালি পৌঁছানোর সুযোগের অপেক্ষায়। বাড়ির মানুষও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু গত বুধবার আসে রাকিবের মৃত্যু সংবাদ! এত টাকা খরচের পর ছেলের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না রাকিবের বাবা নাজিম উদ্দিন মহাজন।
রাকিবের পরিবার জানায়, তিন বছর আগে সদর উপজেলার মৃত ফটিক মৃধার ছেলে জাহাঙ্গীর মৃধার প্রলোভনে পড়েন রাকিব। জাহাঙ্গীর তার ভায়রা শরীয়তপুরের পালং থানার ধানুকা ইউনিয়নের ছোট বিনোদপুর গ্রামের সোহাগ মাতুব্বরের মাধ্যমে ২৭ লাখ টাকায় রাকিবকে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করেন। সোহাগ মাতুব্বরের মাধ্যমে রাকিব পাড়ি জমান লিবিয়ায়। সেখানে আরও টাকার জন্য গেম ঘরে রেখে তার ওপর নির্যাতন চালান সোহাগ। নাজিম উদ্দিন মহাজন ধারদেনা করে ৫ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তারা তাকে ইতালি পাঠায়নি। দুই বছর চার মাস পর গেম ঘর থেকে তাকে ছেড়ে দেয় সোহাগদের চক্র। এরপর আরেক দালাল সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মন্দী গ্রামের মাজেদ খলিফাকে ধরে রাকিবের পরিবার। তাকেও আট মাস আগে ১৫ লাখ টাকা দেয় গেম করার জন্য। কিন্তু তিনিও টাকা নিয়ে গেম ঘরেই নির্যাতন চালান রাকিবকে। একপর্যায়ে রাকিব গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়ার হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রাকিবের।
রাকিবের ছোট চাচা শাহজালাল মহাজন বলেন, নির্যাতন করে আমার ভাতিজাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এখন বলছে রাকিব অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। এভাবে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় দালাল জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, সোহাগ আমার ভায়রা বলে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। কেউ বলতে পারবে না যে, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আর ওই ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। আমার ভায়রা বরং সেখানে ট্রিটমেন্ট করেছেন। এর বেশি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে কথা বলতে মাজেদ খলিফার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, লিবিয়ায় রাকিব নামে একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি। তবে দালাল চক্রের বিষয় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।