কাজের মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণ হয়নি সেতু

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালুখালী-পাংশা আঞ্চলিক সড়কের কালিকাপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামে ৪০০ মিটারের মধ্যে দুটি সেতুর কাজ ফেলে চলে যায় ঠিকাদার। ২০২৩ সালে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি এখনো। যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন আগের ঠিকাদারকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী পাংশা সড়কের দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেসার্স শেখ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু দুটির কাজের দায়িত্ব পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর কাজ শুরু এবং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। একটি সেতুর দৈর্ঘ্য ১২ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ৭ মিটার। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্য সেতুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ৭ মিটার। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেতুর কিছু অংশের কাজ করার পর অপরাগতা প্রকাশ করলে চুক্তি অনুযায়ী দরপত্রটি বাতিল হয়।

সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে সেতু দুটির নতুন কার্যাদেশ জারি করা হলে একটি সেতুর কাজ পায় জাকাউল্লা এন্টারপ্রাইজ এবং অন্যটির কাজ পায় মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের নভেম্বরে সেতু দুটির কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালুখালী ও পাংশার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক এটি। এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় অনেক যানবাহন চলাচল করে। প্রায় তিন বছর আগে সেতু দুটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও কাজ ফেলে মালপত্র নিয়ে চলে যায় ঠিকাদার। বর্তমানে সেতু না থাকায় বড় যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করায় বেড়েছে অতিরিক্ত খরচ। এ ছাড়া সেতুর পাশে বিকল্প সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালুখালী-পাংশা আঞ্চলিক সড়কে সেতু দুটির কাজ চলমান। প্রথম সেতুটির খুঁটির নিচের অংশের ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অন্যটির পাইলিং কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। রাস্তার ওপর কিছু পাথর জমা করে রাখা হয়েছে। সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াতের বিকল্প সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে।

এলজিইডির কালুখালী উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস বলেন, ‘ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সেতু  দুটির কাজ বন্ধ ছিল। আগের ঠিকাদার কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ফের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেতু দুটির নির্মাণ কাজ চলমান।’