মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল রবিবার পরীমণির মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালতে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অসুস্থ থাকার কারণে পরীমণি ও জিমির পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত সময় আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন এ মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন দামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান। আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয়তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। একপর্যায়ে বাদী নাসির উদ্দিনকে ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য আসামিরা চাপ দেন। বাদী রাজি না হওয়ায় আসামিরা তাকে গালমন্দ করেন। বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। পরীমণি ও তার সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন ও ভাঙচুর করেন। ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমণি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।