৯১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ

এস আলমের ছেলেসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

ইসলামী ব্যাংকের ৯১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলমসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আহসানুল আলম একসময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে বসেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন মামলা অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদকের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশ করে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে ৮২৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা (মুনাফাসহ ৯১৮ কোটি ৫৭ লাখ) আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মামলার আসামির তালিকায় আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলম, সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুল ইসলাম চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও চেয়ারম্যান (ইসি কমিটি) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক নমিনি পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর আহমদ, সাবেক পরিচালক কামরুল হাসান, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মাদ সালেহ জহুর, সাবেক পরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হাসান, সাবেক পরিচালক ফসিউল আলম, সাবেক সদস্য (ইসি কমিটি) আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাবেক পরিচালক ও সদস্য (ইসি কমিটি) জামাল মোস্তফা চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উল আলম, সাবেক ডিএমডি (আইঅ্যান্ডসিটিডব্লিউ) তাহের আহমেদ চৌধুরী, ডিএমডি (আইবিডব্লিউ) হাসনে আলম ও ডিএমডি (আরআইডব্লিউ) আব্দুল জব্বার, সদস্য (ইনভেস্টমেন্ট কমিটি) সিদ্দিকুর রহমান, এএএম হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, ওমর ফারুক খান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, সাবেক ডিএমডি (সিআরও) মোহাম্মদ আলী, সাবেক ডিএমডি (সিএইচআরও) মোস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, সাবেক এসইভিপি (বর্তমানে এএমডি ও সদস্য) আলতাফ হোসেন ও সাবেক ডিএমডি (আইটিডব্লিউ) মোহাম্মদ সাব্বির। এ ছাড়া নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কাদের, সাবেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিন, সাবেক এসইভিপি (আইএমডব্লিউ) মোহাম্মদ উল্লাহ, সাবেক ডিএমডি আবুল ফাইয়াজ মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাবেক এসইভিপি (বর্তমানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক) রফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (আইএডি প্রধান) ফরিদ উদ্দিন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (চুক্তিভিত্তিক) রেজাউল করিম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট বিভাগ, বর্তমানে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট) খালেদ মাহমুদ রায়হান ও ভিপি মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম আছেন আসামির তালিকায়। এ ছাড়া ব্যাংকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখাপ্রধান মনজুর হাসান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক শাখাপ্রধান মুহাম্মদ সিরাজুল কবির, এসএভিপি (করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন, সিআইডি-১) মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী, দুলারি এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটর ছাদেকুর রহমান, মুছা এন্টারপ্রাইজের মুছা চৌধুরী, এমএম করপোরেশনের মোহাম্মদ রফিক ও অ্যাপার্চার ট্রেডিং হাউজের এসএম নেছার উল্লাহ আসামি হচ্ছেন।

আসামির তালিকায় আরও আছেন ফেমাস ট্রেডিং করপোরেশনের আরশাদুর রহমান চৌধুরী, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের মোহাম্মদ রাশেদুল আলম, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের মোহাম্মাদ আবদুস সবুর, আনছার এন্টারপ্রাইজের আনছারুল আলম চৌধুরী, রেইনবো করপোরেশনের রায়হান মাহমুদ চৌধুরী, কোস্টলাইন ট্রেডিং হাউজের এরশাদ উদ্দিন, গ্রিন এক্সপোজ ট্রেডার্সের এমএ মোনায়েম, ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্সের গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও সোনালি ট্রেডার্সের সহিদুল আলমকেও।

দুদকের তথ্যমতে, ইসলামী ব্যাংকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেও ব্যাপক ঋণ জালিয়াতির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। নিয়ম না মেনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকটির চট্টগ্রামের তিনটি শাখা থেকে ৩ হাজার ২৫৭ কোটি ঋণের নামে আত্মসাতের অভিযোগ জমা হয় দুদকে। কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাতকে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে গত ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর গত ৯ জানুয়ারি প্রায় ৯৯৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আহসানুল আলমসহ ৫৪ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়।