কাল উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

বইমেলায় অংশ নেবে ৭০৮ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা-২০২৫। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

এবারের বইমেলায় মোট ৭০৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৬০৯টি। মোট প্যাভিলিয়ন থাকবে ৩৭টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি থাকবে। অমর একুশে বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৩০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় শিশুচত্বরে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

বইমেলা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের এসব তথ্য জানানো হয়। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সরকার আমিন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন প্রকাশক প্রতিনিধি মো. রেজাউল করিম বাদশা।

মেট্রোরেলের কারণে এবারের বইমেলায় প্রবেশ ও বাইরের পথে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান সরকার আমিন। তিনি বলেন, মেলায় চারটি প্রবেশপথ থাকবে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের দিক দিয়ে। খাবারের স্টলগুলো থাকছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দিকে। শিশুদের জন্য এবারও থাকছে আলাদা ‘শিশুচত্বর’, যেখানে তারা অবাধ ঘুরতে এবং বই সংগ্রহ করতে পারবে।

বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে তিন শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখতে মেলায় কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন পানি ছিটানো ও মশক নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবারের বইমেলাকে পরিবেশবান্ধব করতে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, ফাস্ট ফুড দোকান ও অন্যান্য জায়গায় পরিবেশবান্ধব উপকরণ যেমন পাট, কাপড় ও কাগজ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে গুণগতমান বিচারে সেরা প্রকাশনাকে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। শৈল্পিক বিবেচনায় তিনটি প্রকাশনাকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং সেরা স্টলের জন্য ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। বাংলা একাডেমি এবারের বইমেলায় নতুন ৪৩টি বই এবং পুনর্মুদ্রিত ৪১টি বই প্রকাশ করবে।