ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় দুজনকে হত্যা

ফরিদপুরের দুই যুবককে ইতালি নিয়ে যওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার লাশের ছবি পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়েছে দালাল চক্র। পরিবারের দাবি, দালাল চক্র নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। 

নিহতরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের মিন্টু হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৬) এবং একই এলাকার মজিবর হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার (২৫)। নিখোঁজের নাম  সোহেল মাতুব্বর। তিনি একই এলাকার আবু তারা মাতুব্বরের ছেলে।

এদিকে এলাকায় দুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরার পর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুটি পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।

নিহত হৃদয়ের বাবা মিন্টু হাওলাদার বলেন, দুই মাস আগে স্থানীয় আবু তারা মাতুব্বর, আলমাছ ও আনোয়ারের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। এরপর আমার ছেলেকে প্রথমে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুবাই থেকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। লিবিয়া অবস্থানের পর সেখানে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে।

রাসেলের বাবা মজিবর হাওলাদার বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে রাসেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ করে শুক্রবার আমার ছেলের লাশের ছবি মোবাইল ফোনে পাঠায়। এর আগে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেয় তারা মাতুব্বর। তবে কয়েকদিন ধরে আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয় দালালরা। আমি তাদের সেই দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় আমার ছেলেকে খুন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

একই গ্রামের ফয়সাল হোসেন নামে একজন জানান, ইতালি নেওয়ার কথা বলে হৃদয় এবং রাসেল নামে দুজনকে লিবিয়ায় নিয়ে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা এটা করেছে, তারা আসলে মানব পাচার চক্রের সদস্য। এভাবে মানুষকে জিম্মি করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।

ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনসুর মাতুব্বর বলেন, ‘আমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দুটি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া, প্রতিটি পরিবারের উচিত ভালোভাবে জেনেশুনে তারপর সন্তানদের বিদেশে পাঠানো। এভাবে বার বার বিদেশের মাটিতে জীবন দিতে হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের। তবে দেশে কেই যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, আমি তার কঠোর শান্তি দাবি করছি।’   

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, ভাঙ্গার দুটি ছেলেকে লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।