বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ফুলতলীতে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি এক কিশোরের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আহতের নাম তরিক উদ্দিন (১৭ )। সে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারকূপ ইউনিয়নের মহিষকুম এলাকার বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ফুলতলী সীমান্ত পিলার ৪৮ -এর নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তরিক উদ্দিনসহ আরও অনেকে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু আনত। এদিন তারা গরু আনতে সীমান্তের ৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে গেলে বিকট শব্দে মাইন বিস্ফোরিত হয়। পরে সঙ্গে থাকা লোকজন আহত তরিক উদ্দিনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ফুলতলী সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তি কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারকুপ ইউনিয়নের মৈষকুম এলাকার বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তির পা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার শামশুল আলম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্ত ফুলতলীর এলাকার ১১ বিজিবির আওতাধীন বিওপি ৪৮ পিলারের নো ম্যানস ল্যান্ডের অভ্যন্তরে একটি প্রকট শব্দ শোনা যায়। তখন এলাকার লোকজন দেখতে পায় মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। পরে স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করে।
আরও জানান, কয়েক মাস ধরে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা, আশারতলী, ফুলতলী, আমতলী, কম্বনিয়া, জামছড়ির কয়েকটা অরক্ষিত পয়েন্টে দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে শত শত চোরাই গরু নিয়ে আসছে কয়েকটি সিন্ডিকেটের সদস্য।’
গত ২৪ জানুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলতলী ও দৌছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তে পৃথক ঘটনায় তিনটি মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নাগরিকের পা বিচ্ছিন্নর ঘটনা ঘটে।
রোকনপুর সীমান্তে ভারতীয়দের হাতে ৪ বাংলাদেশি আটক : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে গরু আনতে যাওয়া চার বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয়রা। গত রবিবার রাতে রোকনপুর সীমান্তের ২১৯/১৭ আর এস পিলারের কাছে তাদের আটক করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে আটকদের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
রোকনপুর সীমান্তে আটকরা হলেন গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের মাহাবুল আলমের ছেলে মুকুল, মোসারফ হোসেনের ছেলে আলিম, ইসাহাক আলীর ছেলে দুরুল হুদা, রোকনপুর ধামাইল গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে বাবু।
ভারতীয়দের কাছে আটক হওয়া মুকুলের শ্বশুর আনারুল ইসলাম বলেন, ‘গরু কেনার জন্য রাত ৯টার দিকে আমার জামাই মুকুলসহ চারজন বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্তে যান। গরু দেওয়ার নাম করে ভারতীয়রা তাদের ডেকেছিল। তারা সীমান্তে গেলে ভারতের আদমপুর এলাকার লোকজন তাদের আটক করে এবং মারধর করে। পরে ভোরে ভারতীয়রা আটক চারজনকে ভারতের ইটাঘাটা বিএসএফ ক্যাম্পে সোপার্দ করে।’
আনারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ভারতীয় লোকজন আমাদের জানিয়েছে, তাদের ইটাঘাটা বিএসএফ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।’
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে চারজনকে আটকের কথা শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।’
এ ব্যাপারে নওগাঁর ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করে মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, রোকনপুর সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুল জাব্বার জানান, বিএসএফ কাউকে ধরে নিয়ে গেছে তাদের (বিজিবির) কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।