বগুড়ায় দুটি পেট্রোল পাম্প উচ্ছেদের প্রতিবাদে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ৮ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।
গত মঙ্গলবার রাতের ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উত্তরবঙ্গের ৮০০ পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হয়। এতে করে সকাল থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। তবে বিকেল ৩টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার সভাপতিত্বে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পাম্প মালিক প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মিজানুর রহমান ও রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল জলিলের স্বাক্ষর করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বগুড়ার আদমদীঘি থানা এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশনে কোনো নোটিস বা আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া ছাড়াই হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালায় নওগাঁ জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। অযৌক্তিক এ অভিযানের ফলে পেট্রোল পাম্প মালিকরা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত সব নিয়মকানুন মেনে ও বৈধ লাইসেন্স অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালিত হয়ে এলেও অতীতে কখনো এমন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ নানা ধরনের যানবাহন
জ্বালানি তেল নিতে আসে পেট্রোল পাম্পগুলোতে। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে তারা। বগুড়া চারমাথা এলাকায় কথা হয় এনজিও কর্মী নয়ন রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পেট্রোল পাম্প তেল দিচ্ছে না। তাই খোলা দোকান থেকে বেশি দামে তেল কিনেছি, লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেশি দিয়ে।’
রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকা থেকে বগুড়ায় আসা প্রাইভেট কারের মালিক কমল বলেন, ‘পরিবার নিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর বেড়াতে যাই। আজ (গতকাল) ফেরার পথে তেল নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ি। পরে পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে প্রতি লিটারে ৩০ টাকা বেশি দিয়ে ২০ লিটার তেল কিনেছি। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে এভাবে বেশি দামে তেল কেনা সম্ভব নয়।’
এদিকে গতকাল বগুড়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের অনিয়ম ও নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জেলা প্রশাসন আশ্বাস দেয়, তাদের দাবিগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাম্প মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গের পেট্রোল পাম্পগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’