চট্টগ্রাম কাস্টমস

২৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে শতকোটি টাকার ৭৪টি গাড়ি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৪৮ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর পড়ে থাকা শতকোটি টাকার গাড়ি যাচ্ছে রি-রোলিং মিলে। গাড়িগুলো অনেক আগেই চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছিল। ফলে ৭৪টি গাড়িকে টুকরো টুকরো করে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে রি-রোলিং মিল কারখানায়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের নিলাম শাখায় উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে প্রায় ১৫টি রি-রোলিং মিলের প্রতিনিধিরা এ নিলামে অংশ নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক খালাস করে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট ঘাটতি কিংবা মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে গাড়িগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকে খোলা আকাশের নিচে।

বিআরটিএ চট্টগ্রামের মোটরযান পরিদর্শক ইকবাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিটি গাড়ির একটা অর্থনৈতিক বয়স সীমা থাকে। গাড়িগুলোর বেশিরভাগ ১০ থেকে ১৫ বছর খোলা আকাশের নিচে ছিল। লবণাক্ত আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে এগুলো মরিচা ধরে সব পার্টস নষ্ট হয়ে গেছে। এমনভাবেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ৭৪টি গাড়ি। তাই এগুলো নিলামে কিনে পুনরায় ব্যবহারের পর্যায়ে না থাকায় তা ধ্বংস করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।’

বিআরটিএর রিপোর্টের ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুপারিশ চাওয়া হয়েছিল নষ্ট গাড়িগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। এ বিষয়ে কাস্টমসের উপকমিশনার ও মুখপাত্র সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনক্রমে গত জুলাইয়ে গাড়িগুলোকে টুকরো করা হয়। সেসব টুকরো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে সম্প্রতি অনুমোদন দেওয়ার পর আমরা নিলামের আয়োজন করি। গত মঙ্গলবার উন্মুক্ত নিলামে ১৫টি রি-রোলিং মিলসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং তাদের মধ্য থেকে গোল্ডেন ইস্পাত সর্বোচ্চ ২৪ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দাম হাঁকিয়েছে।’

এদিকে ৫৮টি লটে ৭৪টি গাড়ি নিলামে বিক্রির জন্য কাস্টমস প্রতি টনের (১০০ কেজি) ভিত্তি মূল্য ধরেছিল ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ৫৩ টাকা। কিন্তু নিলামে দর উঠেছে প্রতি টন ২৪ হাজার ৫০০ টাকা (কেজি ২৪ টাকা ৫০ পয়সা)।
 
গাড়িগুলো এ প্রক্রিয়ায় নিলামে বিক্রি না করে টুকরো করার আগে যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থায় বিক্রির জন্য কয়েক দফায় কাস্টমসকে অনুরোধও করা হয়েছিল বলে জানান কাস্টমস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘এ গাড়িগুলোকে এভাবে না কেটে যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থায় যদি নিলামে বিক্রি করা হতো তাহলে এসব গাড়ির পার্টস অন্য গাড়িতে ব্যবহার করা যেত। পার্টসগুলো ব্যবহারের পর আমরা নিজেরা গাড়িগুলোকে স্ক্র্যাপ আকার বিক্রি করতাম। এখন তো এগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। এখন এগুলো জায়গা রি-রোলিং মিলে এবং যথারীতি তাই হয়েছে।’

কেটে বিক্রি করা গাড়িগুলোর দাম কেমন ছিল? জানতে চাইলে ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে একটি গাড়ি ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রির অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মামলা জটিলতায় গাড়ি নেওয়া যায়নি। এমনিভাবে ইয়ার্ডের ভেতরে থাকা প্রতিটি গাড়ির মূল্য ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্তও থাকতে পারে।’ 

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে ২৯৭টি গাড়ি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে ১৯৫টি গাড়ির আবার মামলা রয়েছে। মামলাহীন ১০২টি গাড়ির বিষয়েও বিআরটিএর মতামত চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কাস্টমস নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার সাকিব হোসেন বলেন, মামলাহীন গাড়িগুলো চলাচলের উপযোগী কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কাছে। তারা যদি এসব গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী বলে রিপোর্ট দেয় তাহলে সেগুলোও হয়তো একই প্রক্রিয়ায় নিলামে বিক্রি করা হতে পারে। অথবা সরকারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কিংবা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া যেতে পারে। এতে সরকারের যেমন লাভবান হবে, তেমনিভাবে গাড়িগুলোও কাজে আসবে।’

গত ২৪ ডিসেম্বর নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম কাস্টমস পরিদর্শনে এসে পুরনো সব গাড়ি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিলাম করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার আলোকে নিলামের মাধ্যমে সব জঞ্জাল পরিষ্কার করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এখন এসব গাড়ির টুকরো বিক্রি হয়ে গেলে বন্দরের ভেতরে থাকা গাড়িগুলো নিলাম শেডে এনে জড়ো করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত