বারবার স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার কারণে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। গত দুটি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়নের পরপরই রিভিউ কমিটি গড়ে ড্যাপ বাস্তবায়নের মূল শক্তিটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সরকার উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহলের কাছে সামগ্রিক জনস্বার্থ, শহরের বাসযোগ্যতাকে ছাড় দিয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলা মোটরে বিআইপি কনফারেন্স হলে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধনে জনস্বার্থ, পরিবেশ ও বাসযোগ্যতার সংকট শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় ‘নাগরিক সংলাপ’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সংবিধানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সংস্কার হলেও সমগ্র দেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের নগরায়ন, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, ইমারত, নির্মাণ ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার যৌক্তিক কোনো সংস্কার হয়নি। বিপরীতে ড্যাপ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই অপপ্রচারণা চালিয়েছে। ড্যাপ অচিরেই সংশোধন করা হবে, এই বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে ভবন নির্মাণে আগ্রহী ভবন মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইমারত নকশা ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট অনেক পেশাজীবী নতুন ড্যাপের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভবন নকশায় আগ্রহী না হয়ে ভবন মালিকদের ভিন্ন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তারা দাবি করেন, বিগত সময়ে গোষ্ঠীস্বার্থে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিকল্পনায় যেসব পরিবর্তন করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সঠিক তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনা, ইমারত নির্মাণ, উন্নয়ন, পরিবেশসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনীর ব্যবস্থা অচিরেই গ্রহণ করা দরকার।
তারা আরও বলেন, ড্যাপ বাতিলের দাবির মাধ্যমে পরিকল্পনাবিহীন উন্নয়নের পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠীস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা গোষ্ঠীস্বার্থে কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও পরিকল্পনাগত বিষয়াদি, সংস্কৃতি, কমিউনিটি প্রভৃতি বিষয়াদিকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনার দর্শন ঠিক করা এবং কেমন শহর মানুষ চায় সেই ব্যাপারে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করেই ইমারতসংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের অনৈতিক প্রভাবকে দূর করে পরিকল্পনাবিদদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিলে শহরকে বাসযোগ্য করা এবং পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।