বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের পুড়া ও ধ্বংসপ্রাপ্ত কুষ্টিয়াস্থ বাড়ির সম্মুখস্থ কিছু অংশ এবার বিক্ষুব্ধরা বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার সময় হানিফের কুষ্টিয়া পিটিআই সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।
গত ৫ আগস্টের দিনে হানিফের এই বাড়িটিতে ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার পর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই শতাধিক বিক্ষুদ্ধ জনতা বুলডোজার নিয়ে এসে বাড়ির সামনের গেটসহ বাড়ির দেওয়াল ভাঙচুর করে। বাশের বেড়াতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে বাড়িতে কোনো জিনিসপত্র বা লোকজন ছিল না।
এ সময় বিক্ষুদ্ধদের বলতে শোনা যায়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আজকে ছাত্রলীগের ব্যানারে জাতির সামনে ভাষণ দেবেন। যে আমাদের ভাইদের গুলি করে দেশ থেকে পালিয়েছেন, তিনি কী করে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আমরা আওয়ামী লীগের দোসরদের কোনো অস্তিত্ব রাখতে চাই না।
এদিকে হানিফের বাড়ি ভাঙচুরের পরে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের কুষ্টিয়া শহরের কদমতলা মোড়ের বাড়িতে ভাঙচুর করতে গেলে ওই ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে বসবাসকারীদের প্রবল আপত্তির মুখে ভাঙচুর করতে না পেরে ওই নব নির্মিত বিলাসবহুল ৭তলা বাড়ির সামনে মশাল মিছিল করে রাস্তায় টায়ার জালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।
শহর জুড়ে এই ভাঙচুর বা অগ্নি সংযোগের ঘটনাস্থলে কোনো আইনঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়নি। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দেখুন আপনিও যা শুনেছেন আমিও তাই শুনছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে নতুন করে একটা ভীতিকর পরিস্থিতি বা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই তারা এই কাজ করছে। তারা হানিফের বাড়ি ছাড়াও জেলা আ. লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানসহ অন্যান্য নেতাদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালাতে গেছে। যেখানে তাদের সাথে মিনি মাইজ হয়েছে সেখান থেকে ফিরে এসেছে। এরা কারা বা এদের সাংগঠিক পরিচয় কি সেটাও স্পষ্ট নয়। তাদের কাছে কোনো ব্যানার বা সাংগঠনিক পরিচয়ও ছিল না। হিট অবদ্যা মোমেন্টে এদের যে ভাবমুর্তি তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের কবল থেকে ভাঙচুর ঠেকানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতো। এসব ঘটনায় এখনও কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আসেনি। তবুও পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।