পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস একই দিনে হাত ধরাধরি করে আসছে। তাদের বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসকে অন্যরকম ভালো লাগায় উদযাপনের প্রতীক্ষায় থাকে সবাই। বিশেষ দিনের বর্ণিল সাজপোশাক নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
ফাল্গুনের পোশাক হিসেবে নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। সঙ্গে যোগ হয় বাহারি সালোয়ার-কামিজ, টপস, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন হাউজগুলো পোশাকের রঙ আর ডিজাইনে নিয়ে আসে পরিবর্তন ও নতুনত্ব। এবারের বসন্তের পোশাকে আছে নানা রংয়ের প্রকাশ। বেশিরভাগ ফ্যাশন হাউজই বসন্তের পোশাকে উজ্জ্বল রঙ ও প্রকৃতি থেকে নেওয়া মোটিফকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
নকশায় ভিন্নতা
ফাল্গুনের মেয়েদের পোশাক হিসেবে শাড়ির প্রাধান্য থাকলেও সিঙ্গেল কামিজের আধিপত্যও একেবারে কম না। নানা কাটের সিঙ্গেল কামিজ ও টপস দেখা যাচ্ছে। এসব পোশাকে কাজ করা হয়েছে নানা ব্লক, টাইডাই, স্প্রে ব্লক, চুনরি, স্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি। বসন্তের হলুদ রঙের সঙ্গে লাইট সবুজ কমলা, লাল যোগ হয়েছে। ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, উৎসবপ্রিয় বাঙালি বসন্তের প্রথম দিনটি উদযাপন করে বাহারি রঙের সাজ পোশাকে। এবার ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসে বেছে নিয়েছে ‘আমেরিকান নেটিভ পটারি’ বা আমেরিকান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন নকশাকে। যা অঞ্চলে মূলত মৃৎশিল্পের নকশা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ব্যতিক্রমী নকশার পাশাপাশি কাপড়েও আছে বৈচিত্র্য। হাফ সিল্ক, সুতি, জ্যাকার্ড কটন, মারসালাইস কটন এবং স্ল্যাব ভিস্কাস কাপড়ে কমলা, গাঢ় হলুদ, হালকা হলুদ, অলিভ আর সাদা রঙের ব্যবহার রয়েছে। পোশাক তালিকায় আছে শাড়ি, থ্রিপিস, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, রেডি ব্লাউজ, সিঙ্গেল ওড়না, আনস্টিচড থ্রি-পিস, টিউনিক, স্কার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, পায়জামা, মগসহ অন্যান্য সামগ্রী। শিশুদের জন্য আছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, ফ্রক, ড্রেস, স্কার্ট। আরও আছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের পোশাকের আয়োজন।
বসুন্ধরা শপিং মলের দেশীদশের আউটলেট ঘুরে চোখে পড়ল হলুদ, গোলাপি আর লাল রঙের মিশেলে তৈরি পোশাক। একটু উজ্জ্বল রঙের সুুতি শাড়িরই প্রাধান্য। শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ জুড়ে বসন্তের আবেদনটাই চোখে পড়ে। যেহেতু শীতের শেষে
প্রকৃতিতে মিষ্টি ফাগুনের হাওয়ার সঙ্গে হাল্কা গরমেরও ছোঁয়া থাকে। তাই এ সময় সুতি কাপড়কেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, এসব বসন্তের পোশাকে। কটন, লিনেন, খাদি, ভয়েল এবং তাতের তৈরি বসন্তের পোশাক নিয়ে আসে বৈচিত্র্য। আর সাধারণত বসন্তের পোশাকের ডিজাইনে ফুলকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং প্রকৃতির বিভিন্ন মোটিফও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। কে ক্র্যাফট তাদের আয়োজনে সমসাময়িক মোটিফ এবং প্রিন্টের পাশাপাশি প্রাধান্য দিয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা ডিজাইন, প্যাটার্ন এবং রঙ। পরিচালক খালিদ মাহামুদ খান জানান, শীতের শেষে প্রকৃতিতে মিষ্টি ফাল্গুনের হাওয়া যেমন থাকে তেমনি সঙ্গে হাল্কা গরমেরও ছোঁয়াও থাকে। তাই এ সময় সুতি কাপড়ই প্রাধান্য পেয়েছে। দিনে পোশাক নির্বাচনে সুতির পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। আর রাতে সুতির পাশপাশি জর্জেট, সিল্ক অথবা হাফ সিল্কের পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। নকশায় হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মাধ্যমের ব্যবহার হয়েছে। হলুদ ও কমলার পাশাপাশি পোশাকের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে লাল, ম্যাজেন্টা, অফ-হওয়াইট, মেরি গোল্ড, পার্পল, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, স্যাল্মন রেড, পিচ, ব্রিক রেড, নীল, ফরেস্ট গ্রিন ইত্যাদি রঙ।
ফাল্গুনের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন হাউজ বিশ^ রঙ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, গোল্ডেন হলুদ, কাঁচা হলুদ, কমলা, গেরুয়া, ম্যাজেন্টার সঙ্গে আরও সহকারী হিসেবে গাজর, কমলা, টিয়া, সবুজ, নেভি ব্লু ও ফিরোজা রঙকে প্রাধান্য দিয়েছি। ফ্লোরাল মোটিফেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সুতি, লিনেন, অ্যান্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক কাপড়ে পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে রয়েছে ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, হাতের কাজ, কারচুপি ইত্যাদি। ফ্যাশন হাউজ ‘খুঁত’-এর ডিজাইনার ঊর্মিলা শুক্লা বলেন, ‘হলুদের পাশাপাশি সবুজ, গোলাপি, নীলসহ সব ধরনের রঙকেই প্রাধান্য দিয়েছি। এ সময় প্রকৃতি যেহেতু নানা রঙে সেজে ওঠে, তাই রঙিন সবকিছুকেই আমরা প্রাধান্য দিয়েছি। সবুজের নানা শেড যেমন গাঢ় সবুজ, টিয়া সবুজ, কচি পাতার রঙ এ ধরনের রঙ নিয়েও কাজ করেছি আমরা।’