সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ থেকে দুর্বৃত্তায়ন

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও পরিবেশে সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণের আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিগত কয়েক দশকে সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সরকার নিজ শাসনক্ষমতা সংহত করতে যেভাবে দুর্বৃত্তায়িত এবং নিজস্ব মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাতে করে মানুষ আর প্রচলিত সংবাদ ও সংবাদব্যবস্থাপনায় আস্থা রাখতে পারছে না। বিশেষ করে গেল দুই দশকের ব্যবধানে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের একটি বড় অংশ নিজেদের পরিণত করেছেন ‘দলদাসে’। বিশেষ করে সেই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের লেজুড়বৃত্তিই হয়ে ওঠে এসব দলদাস সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের অন্যতম সম্পাদকীয় নীতি-নৈতিকতা। যার বিনিময়ে দলদাস তথা আওয়ামী সাংবাদিকদের অনেকে নিয়েছেন রাষ্ট্র ও সরকারের তরফ থেকে নানা মাত্রা ও পরিমাণের আর্থিক ও অন্যান্য অনৈতিক সুবিধা। দেওয়া হয়েছে রাজউক কিংবা রাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা আবাসন ও জায়গাজমি। পেয়েছেন টেলিভিশনের লাইসেন্স। যা তারা আবার বিক্রি করেছেন বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর কাছে। এমনকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভসহ (সিআরআই) বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে লাখের অঙ্কে মাসোহারাও নিয়েছে অনেক রাজনৈতিক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র ও সরকারে থাকা কর্র্তৃত্ববাদী সংগঠনগুলো সংবাদমাধ্যমকে উপরোক্তভাবেই শুধু কলুষিত করেনি, সংবাদমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও কর্র্তৃত্বের মাত্রা এতটাই সংহত করা হয়েছে যে, অন্য অনেক কিছুর মতোই এই মাধ্যমেও তৈরি হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি। যা চূড়ান্ত মাত্রা নেয় বিগত দুই দশকে। এমনিতর লোভ আর ভয়ের সংস্কৃতিতে পড়ে নিজেদের শিরদাঁড়া শক্ত ও সোজা করে রাখতে পারেনি বেশিরভাগ সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম। অনেক সময়েই সরকার বা রাষ্ট্রযন্ত্র নিজ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি না জানালেও সংবাদকর্মীরা নিজে থেকেই সেটি তাদের (সরকার ও রাষ্ট্র) উপযোগী করে প্রকাশ করতে শুরু করে, যা পরিচিতি পায় ‘সেলফসেন্সরশিপ’ হিসেবে।

সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ থেকে দুর্বৃত্তায়ন যেভাবে

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার প্রকাশ যে নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠবে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় খোদ রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের ৩৯ অনুচ্ছেদে! যেখানে বলা হয়েছে : ‘(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল, (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে, (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং (খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’

উপরোক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধারাসমূহে মানুষের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও তার প্রকাশ (যেমন- সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা-বিবৃতি ও গণমাধ্যমের প্রকাশবৈশিষ্ট্য) বাধাহীন নয়। কেননা ৩৯ অনুচ্ছেদে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে এসব অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই বাধা-নিষেধকে ‘যুক্তিসংগত’ দাবিও করা হচ্ছে শাসনতন্ত্রে! সর্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার অবশ্য বলছে, কোনো নাগরিকের মত প্রকাশ ও প্রচারের আগে রাষ্ট্র তা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই অর্থে গণমাধ্যমের ওপর সব ধরনের প্রাক নজরদারি (Pre-censorship) কিংবা আরোপিত বাধা-নিষেধ (Imposed embargo) জনবিরুদ্ধ বলেই প্রতীয়মান হয়। উপরোক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধারাসমূহে দেশের নাগরিকদের মুক্তভাবে তাদের সব প্রকাশ ঘটানোর ‘অসীম’ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কারও মত প্রকাশ ও প্রচারের আগে রাষ্ট্র তা প্রতিরোধ করতে পারে না। এ অর্থে গণমাধ্যমের ওপর সব ধরনের প্রাক নজরদারি (Pre-censorship) অসাংবিধানিক বলে প্রতীয়মান হয়। এমনকি Sk. Fazlul Karim Selim v. Bangladesh 1981 BLD  ৩৪৪ মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ প্রকাশকের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি না দেওয়াকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেন।

যদিও স্বাধীনতা-পরবর্তী সরকারগুলো মানুষের চলাফেরা, সভা-সমাবেশ করা, কথা বলা, মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারসমূহকে নানাভাবে আইন ও বিধিবিধানের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যার মৌলিক ভিত্তিই হচ্ছে শাসনতন্ত্রের ৩৯ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদের জোরেই সরকারগুলো প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সম্প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যেমন- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে দ-বিধি ১৮৬০, পোস্ট অফিস আইন ১৮৬৯, টেলিগ্রাফ আইন ১৮৮৫, বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্র্তৃপক্ষ আইন ২০০১, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬, বাংলাদেশ বেতার কর্র্তৃপক্ষ আইন ২০০১, চলচ্চিত্র সেন্সরশিপ আইন ১৯৬৩, সিনেমাটোগ্রাফ আইন ১৯১৮, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট ১৯৭৩ ইত্যাদি। বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বৈদেশিক সম্পর্ক আইন ১৯৩২। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে করা হয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪, সংবিধানের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধানাবলি (অনুচ্ছেদ ১৪১ খ ও ১৪১ গ)। শালীনতা ও নৈতিকতার বাধ্যবাধকতায় অশালীন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণ আইন ১৯৬৩। আদালত অবমাননা রুখতে গিয়ে সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (ধারা ১৯৫, ৪৭৬, ৪৮০-৪৮৭), দন্ডবিধি ১৮৬০ (ধারা ১৭২-১৯০, ২২৮) এবং দেওয়ানি কার্যবিধি (ধারা ১৩৫ ও ১৫১)। অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তি নিশ্চিত করতে দ-বিধি ১৮৬০ এবং মানহানি সংক্রান্ত অন্যায় ঠেকাতে দন্ডবিধি ১৮৬০ (ধারা ৪৯৯)-এর প্রয়োগ অনেকটাই নাগরিকের তথা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আইনের সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রণ করে।  তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে স্বেচ্ছাচারী তথা কর্র্তৃত্ববাদী মনোভাবের প্রথম প্রকাশ আমরা দেখতে পাই এই বঙ্গে মানুষের মুক্তির ফেরিওয়ালা শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠে। স্বাধীন এই রাষ্ট্রটির বয়স তখন মাত্র ১১ মাস। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। সেদিন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র। যাকে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা ‘সংবিধান’ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যাই হোক, শাসনতন্ত্র অনুমোদনের দিনে জাতীয় সংসদে নাতিদীর্ঘ এক ভাষণ দেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান। যেখানে আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে বা চালানো হবে তার বিস্তারিত প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন তিনি। বাদ যায়নি গণমাধ্যম কেমন হবে তার বয়ানও। সেদিনের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকতার নৈতিকতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘গণতন্ত্রে মৌলিক অধিকার ব্যবহার করতে হয়। তার জন্য Ethics মানতে হয়। খবরের কাগজে Journalism করতে হলে Ethics মানতে হবে। তা না হলে Ethics impose  করতে হয়।’ এই এথিকস তিনি ইমপোজ করেছিলেন তার শাসনামলেই। ১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে শাসনতন্ত্রের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার স্থগিত করার সাংবিধানিক ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়। যদিও বাহাত্তরের শাসনতন্ত্রেই নিহিত ছিল জনগণের বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ যাবতীয় মৌলিক অধিকার হরণের বিধিবিধান। নিবর্তনমূলক আটক এবং জরুরি অবস্থা জারির বিধান না থাকলেও দ্বিতীয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন করা হয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং নিবর্তনমূলক আটকের বিধান। এ ছাড়াও গেল কয়েক দশকে ক্ষমতাসীন দলের স্বেচ্ছাচার ও আর্থ-রাষ্ট্রনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন সামাল দিতে গিয়ে সংবাদপত্র তো বটেই, নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও যূথবদ্ধ সোচ্চারণকে নিয়ন্ত্রণ করতে জারি করা হয়েছে নানা কালাকানুন। যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ২০১৮, যা পরে আরও জনবিরুদ্ধতায় ঋদ্ধ করে জারি করা হয় সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩। 

জনবিরুদ্ধ এসব আইনকানুনের বৈধতা নেওয়া হয়েছে প্রধানত উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের নামে। সংবাদমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এমনি সব আইনকানুন আরোপ করেই ক্ষান্ত থাকেনি স্বাধীনতা-পরবর্তী কোনো সরকারই। অধিকাংশ দুর্বৃত্ত পুঁজির মালিকদের গণমাধ্যমের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সুগম ও সংহত করা হয়েছে আর্থ-রাষ্ট্রনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। কেন না সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীন থাকে, যদি তার নৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তাহলে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন জারি রাখা সম্ভব হয় না। সংবাদমাধ্যমের দুর্বৃত্তায়নের শুরুতেই সরকারগুলো যে কাজটি করে সেটি হচ্ছে, জনগণের সংসদ হিসেবে গ্রাহ্য এই প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাকে দুর্বৃত্ত পুঁজির মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া। সেই সুবাদে দুর্বৃত্ত পুঁজির মালিকরা এই খাতের পরিসরের বিস্তৃতি ঘটায় ঠিকই, বিপরীতে এর গুণগত মানকে তলানিতে নিয়ে ঠেকায়। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকতাকে পরিণত করা হয় মানহীন এক জনঅনাস্থার প্রপঞ্চে। যার পরতে পরতে থাকে শুধু সরকার ও লুটেরা জনবিরুদ্ধ ধনিকশ্রেণির আর্থ-রাষ্ট্রিক দুর্বৃত্তায়ন আড়াল করার সব মিথ্যা প্রচারণা। থাকে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক দর্শন ও নিজস্ব বয়ানের গল্প।

রাষ্ট্রিক ও করপোরেট ক্লায়েন্টিলিজমে নিপীড়িত সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মী

গেল কয়েক দশকে দেশে গণমাধ্যমের পরিসরগত যে বিস্তৃতি ঘটেছে তা যৌক্তিকতার যেকোনো মানদণ্ডেই নেতিবাচক। কেন না সরকারগুলো নিজেদের কর্র্তৃত্ববাদিতা, স্বেচ্ছাচার ও জনবিরুদ্ধতা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্র-সমাজে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে একেবারে নিজের করে নিয়েছে। তা সে আইনি বাধ্যবাধকতা, মালিকানা এবং কর্র্তৃত্ব সবক্ষেত্রেই। ফলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের পড়তে হয়েছে দুই ধরনের বাধ্যবাধকতা। এক. করপোরেট ক্লায়েন্টিলিজম এবং দুই. স্টেট ক্লায়েন্টিলিজম। বর্তমানে দেশে ছাপা মাধ্যমে পত্রপত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৫টি। সম্প্রচার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৩টি। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানার টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৪টি। অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে সম্প্রচারে রয়েছে ৩০টি। ফিকোয়েন্সি পায়নি ১৩টি এবং ফ্রিকোয়েন্সি পেয়েছে কিন্তু সম্প্রচারে আসেনি দুটি চ্যানেল। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বেতারকেন্দ্র ১৪টি। সরকার অনুমোদিত এফএম রেডিও ২২টি এবং কমিউনিটি রেডিও ১৮টি। সংবাদমাধ্যম সম্পর্কিত এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন কয়েক হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী। যাদের সবাইকেই উপরোক্ত দুই ক্লায়েন্টিলিজমকে মেনে নিয়েই চাকরি করতে হচ্ছে। এমনিতর বাধ্যবাধকতায় কাজ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা হারাচ্ছে তাদের সৃজনশীলতা। সুযোগ পাচ্ছে না দক্ষতা বাড়ানোর। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরীর গবেষণা থেকে উদ্ধৃত করে বলা যায়, দেশের সাংবাদিকদের ৯২ শতাংশই মনে করেন তাদের চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই। ৫৭ শতাংশ কাজ করেন অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ নিয়ে। ৩১ শতাংশ মনে করেন, তারা যে বেতনভাতা পান তা দিয়ে জীবন চালানোই দায়। একই সংখ্যক সংবাদকর্মীর ধারণা, বেতনভাতা নির্ধারণ প্রশ্নে মালিকদের ইচ্ছাই শেষ কথা। এখানে যোগ্যতা ও দক্ষতার কোনো বালাই নেই।  দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্র্তৃত্ববাদী শাসন-শোষণবিরুদ্ধ জুলাই জনঅভ্যুত্থান পরবর্তীকালে দুর্বৃত্তায়নে ঋদ্ধ সংবাদ সংস্কৃতি পাল্টে ফেলার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এমন প্রশ্নও উঠছে যে, কার্যকর অর্থে সেই সুযোগ কি কাজে লাগানো যাচ্ছে?

লেখক: সাংবাদিক ও সদস্য, রাষ্ট্রচিন্তা

khoborjibi@gmail.com