ট্রাম্পের শুল্কারোপ বহুমুখী বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার জারিকৃত এই সিদ্ধান্তের আওতায় কেউ ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ধাতব আমদানির ওপর শুল্ক একদম সরলীকরণ করা হলো। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা ব্যতিক্রম নেই। এটা সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য হবে। তবে এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বহুমুখী বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালেও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তখন এই শুল্কের হার ছিল ১০ শতাংশ। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের এই পদক্ষেপ আগামী ৪ মার্চ কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পের প্রসার হবে বলে ট্রাম্প আশা করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে উল্টো ফলও আসতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের ফলে একাধিক পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হতে পারে।

নতুন এই ঘোষণা কানাডা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হওয়া লাখ লাখ টন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর প্রযোজ্য হবে। এগুলো আগে শুল্ক ছাড় পেয়ে আসছিল। তবে এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে কানাডায়। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ করে থাকে দেশটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির কারণে অস্ট্রেলিয়াকে শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

প্রথম মেয়াদে দেশীয় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশে ২০১৮ সালে সেকশন ২৩২ শুল্ক আইন চালু করেছিলেন ট্রাম্প। সর্বশেষ আদেশটি ওই আইনেরই সম্প্রসারণ। ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছেন, এই আদেশের ফলে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে বিদেশি পণ্যের ডাম্পিং বন্ধ হবে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিকতা দেখতে পায়নি বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। একই মতামত জানিয়েছে কানাডাও। শুল্কের প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় দেশটির ইস্পাত প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, লাগামহীন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকি আরও উসকে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে সচেতন না হলে এর ভুক্তভোগী হবেন কোটি কোটি মানুষ।