৬ হাজার কোটি টাকা চায় ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তিন অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি বাজেট প্রাক্কলনের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকারকে ৫ হাজার ৯২১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এতে জাতীয় নির্বাচনের ২ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য ব্যয়ের জন্য চাওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যদিও আমরা এই বাজেট প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু এটি পরবর্তীতে কমতেও পারে। নির্বাচনের সময় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরবর্তী বৈঠকের পর সঠিক ব্যয়ের পরিমাণ জানা যাবে।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছর ছাড়াও ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্যও একটি সম্ভাব্য বাজেটও প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। বাজেট অনুযায়ী, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার ৯২১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে কমিশনের ঘাটতি আছে ৫ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭২৪ কোটি ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চেয়েছে কমিশন।

 ভোটার তালিকা প্রস্তুত কার্যক্রম, জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণ, নির্বাচন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভোটার তালিকা খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৯ কোটি ২৫ লাখ ০৫ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার সংস্থান রাখার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের বাজেটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় সংস্থান রাখা হলো।