বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকার এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক হত্যাকা- ও দমন-নিপীড়ন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রতিবেদনকে অকাট্য দলিল হিসেবে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট এবং অসম্ভব জোরালো একটি প্রমাণ। এই প্রমাণটি তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে (এভিডেন্স) সাক্ষ্য হিসেবে আসবে এবং অকাট্য দলিল হিসেবে এটাকে ট্রাইব্যুনালে ব্যবহার করা যাবে। সেটা আমরা ব্যবহার করব।’
গতকাল ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ওপর শেখ হাসিনা সরকার ও আওয়ামী লীগ যে দমন-নিপীড়ন ও হত্যাকা- চালিয়েছে তার তদন্ত করে জাতিসংঘ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সে প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।’
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নির্দেশে বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে গত বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) একটি প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
এতে বলা হয়, ওএইচসিএইচআরের অনুমান, বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু। কয়েক হাজার মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। কেউ কেউ স্থায়ীভাবে আজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং ছবি-ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ওএইচসিএইচআর নিশ্চিত হয়, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি সম্প্রসারিত দল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বা ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল এবং তারা ব্যাপকভাবে বেআইনি সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছিল।