পিএসজিতে বিনিয়োগ কমাতে পারে কাতার

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)-তে বিনিয়োগ কমানোর চিন্তাভাবনা করছে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফিকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে চলমান তদন্তের জেরে দোহার ক্ষমতাধর মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা পিএসজিতে কাতারের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। 

গত বুধবার ফ্রান্সের এক আদালত পিএসজি সভাপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় এনেছে। অভিযোগ, তিনি প্যারিস-ভিত্তিক এক গণমাধ্যম কোম্পানির ক্ষেত্রে ভোট কেনা, ভোটদানে হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে সহায়তা করেছেন। এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্যবসায়ী আরনো লাগারদেরের একটি পুরনো মামলা। যদিও খেলাইফি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস বর্তমানে পিএসজির ৮৭.৫% মালিকানা ধরে রেখেছে। তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই তারা ১২.৫% শেয়ার বিক্রি করেছিল আমেরিকান গ্রুপ আর্কটস স্পোর্টস পার্টনারসের কাছে। এবার তারা আরও শেয়ার বিক্রির কথা ভাবছে। এর মূল কারণ, কাতার এখন ফ্রান্সের বাইরের অন্যান্য ক্রীড়া প্রকল্পে বেশি মনোযোগ দিতে চায়।    

নাসের আল-খেলাইফি শুধু পিএসজি প্রেসিডেন্টই নন, তিনি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত ২০১৮ সালে লাগারদেরে গ্রুপের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই থেকে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল-এর অধীনস্থ কাতার হোল্ডিং এলএলসি সেই সময় লাগারদেরে গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার ছিল। 

প্রথমে কাতারের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল, ভিনসেন্ট বলোরের অ্যাম্বার ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের পক্ষ নিলেও পাঁচ দিনের ব্যবধানে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে লাগারদেরের পক্ষ নেয়। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, এ অবস্থান পরিবর্তনের আগে খেলাইফিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। 

এই তদন্ত নিয়ে কাতার ক্ষুব্ধ, বিশেষ করে ফ্রান্সে তাদের বিশাল বিনিয়োগ সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে দেশটি। পিএসজিতে বিনিয়োগ কমিয়ে আনলে তা ফ্রেঞ্চ ফুটবলে নতুন এক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করবে, যেখানে লিগ ওয়ান ইতোমধ্যেই ডিএজেডএন-এর বিরুদ্ধে টেলিভিশন স্বত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছে। 

পিএসজিতে কাতারের বিনিয়োগ কমানো মানে শুধু ক্লাবটির জন্য নয়, ফরাসি ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখন দেখার বিষয়, দোহার এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে কী পরিণতি ডেকে আনে।