চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

বড় ব্যবসায়ীরা ফায়দা নিতে রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে

বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ফায়দা নিতে গিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আজ বিভিন্ন কারণে ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা তাদের ফায়দা নেওয়ার জন্য রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ট্যাক্স মওকুফ করিয়েছে। তারা কম্প্রোমাইজ করেছে তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য। কিন্তু ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের তারা ধ্বংস করে দিয়েছে গত ১৬ বছরে।

তিনি শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাজীর দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মেলার আয়োজক ও মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। 

মেলায় ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইরান, চায়না সহ দেশি বিদেশি দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়েছে। আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলার প্রবেশ টিকেটের মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ২০ টাকা। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম অনেক পুরাতন নগরী। এটি বাণিজ্যের জন্যই প্রসিদ্ধ ছিল। এক সময় মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সংযোগ ছিল। সেটা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে চট্টগ্রামের সুনাম ব্যবসায়িকভাবে ছড়িয়েছে। 

তিনি বলেন, আজ চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক নগরীর পাশাপাশি পর্যন্ত পর্যটন নগরীও। কিন্তু সেটাকে আমরা ফোকাস করতে পারিনি। এটাকে ফোকাস করতে হবে। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে চট্টগ্রামের এক সময় অনেক অবদান ছিল। আজ তা হারিয়ে যাচ্ছে। জুট সেক্টরে নারায়ণগঞ্জের পরেই চট্টগ্রামের স্থান ছিল। আমিন জুট মিলস, হাফিজ জুট মিলস সহ অন্যান্য জুট মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা আজ যেসব স্লোগান দিচ্ছি-আমরা প্লাস্টিক চাই না, পলিথিন চাই, শহরকে সুন্দর রাখতে চাই। পলিথিনের বিকল্প আমরা জুটের ব্যাগ দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা বিকল্প দিতে পারছি না বলেই সুফল আসছে না। 

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের ব্যবসায়ী আফসা মনসুর, ভারতের ব্যবসায়ী মিরাজ কাশ্মীর, মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ফেরদৌস আহমেদ লিটন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।