বইমেলার শিশুপ্রহর মানেই বিশেষ কিছু। ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহরের কারণে তাদের পদচারণা আর কলতানে মুখরিত থাকে বইমেলা প্রাঙ্গণ। গত বছর সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর সঙ্গে খুদে পাঠক-দর্শনার্থীদের খুনসুটি, শেষে পরিবারের ছোট সদস্যটির চলত বইকেনার পর্ব। এবার বই কেনার পর্ব থাকলেও নেই খুনসুটি আর সিসিমপুরের আয়োজন। বই কেনা হলেও অনেক খুদে পাঠক আশাহত হয়ে এবারের মেলায় প্রথম শিশুপ্রহর কাটিয়েছে।
গতকাল শনিবার ছিল মেলার ১৫তম দিন। দিনটি ছিল শিশুদের জন্য শিশুপ্রহরের জন্য নির্ধারিত। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল শিশুপ্রহরের। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার জন্য শিশুপ্রহর অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে শিশুদের প্রাণচঞ্চলতা থেমে থাকেনি। তারা চিত্রায়ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং শিশুতোষ বই কিনতে ব্যস্ত সময় পার করেছে। শিশুপ্রহর আর সিসিমপুরের আসরে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাবা-মার সঙ্গে মেলায় এসেছে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া সামিয়া। সিসিমপুর আর শিশুপ্রহরের টানেই প্রতি বছরই মেলায় আসে সামিয়া। তবে এবার সিমপুরের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না করতে পেরে ভীষণ মন খারাপ তার।
দেশ রূপান্তরকে সামিয়া বলে, আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছি। প্রতি বছরই বাবা-মার সঙ্গে মেলাতে আসা হয়। বই কেনা হয়, সিসিমপুরের ইকরি-সিকু-হালুম-টুকটুকির সঙ্গে অনেক মজা হতো। এবার একটু মন খারাপ, যদি তাদের সঙ্গে একটু আড্ডা দিতে পারতাম, খুশি হতাম কিছুটা। তারপরও বই কিনতে পেরে ভালো লাগছে।
তার অভিভাবক সাদ্দাম জানান, গত বছর আমরা শেষের দিকে এসেছিলাম, অনেক বই মিস করে ফেলেছিলাম। এবার সে বায়না ধরেছে, যেন আমরা আগে আসি। এবার আগে এলেও সিসিমপুরের স্টলও নেই, তাদের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোও নেই, সেজন্য সে কিছুটা আশাহত। ও যখন নার্সারিতে ছিল তখন থেকেই আমরা নিয়মিত আসছি, সেই লক্ষ্য থেকেই আসা। আমরা আশা রাখি, শিশুদের বই ও মেলামুখী করতে সিসিমপুরসহ নানা উদ্যোগগুলো চলমান রাখা উচিত।
বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী বইমেলা ও অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে ছিল শিশু-কিশোরের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে মায়ের সঙ্গে এসেছে নার্সারি গ্রুপের শিক্ষার্থী জান্নাত ও আহমেদ ফয়েজ। এই খুদে দুই পাঠকও জানায়, সিসিমপুরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না পেয়ে, তাদেরও মন খারাপ। তবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে তাদের ভালো লেগেছে।
তাদের অভিভাবকরা বলেন, সিসিমপুরের কারণে বাচ্চাদের মধ্যে অনেক উত্তেজনা কাজ করে। তারা এখানে এসে খেলতে পারে, অনেক বাচ্চার মধ্যে তাদের মন বেশ প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। আমার মনে হয়, এবারের মেলায় সিসিমপুর না থাকায়, বাচ্চারাও কম আসবে। তবে বাংলা একাডেমি চাইলে কিছু একটা পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন আয়োজন রাখতে।
এদিকে সিসিমপুরের অনুপস্থিতির কারণে শিশুদের বই বিক্রিতেও কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রকাশনী সংশ্লিষ্টরা। ময়ূরপঙ্খি প্রকাশনীর ম্যানেজার চন্দনা ম-ল বলেন, প্রথম শিশুপ্রহরে আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, যেহেতু মেলায় সিসিমপুরের আয়োজন থাকছে না। এবার হয়তো বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। অনেকেই বই কিনতে এসে সিসিমপুরের কথা জিজ্ঞেস করছেন। যদি বাংলা একাডেমি এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ যেমনÑ শিশুদের খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট শিশু কর্নারে আয়োজন করতে পারলে বিষয়টি মন্দ হতো না, হয়তো সেই আর্কষণের কারণে আমাদের খুদে পাঠক দর্শনার্থীরা মেলা আসার বায়না ধরত।
ভর্তি পরীক্ষার কারণে আজ নেই শিশুপ্রহর : সাধারণত শুক্র ও শনিবার মেলার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকে শিশুপ্রহর। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কারণে ছিল না গতকালের শিশুপ্রহর। দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বইমেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
এদিকে সার্বিক বিষয়ে কথা হয় অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সরকার আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার দুদিন শিশুপ্রহর থাকছে না। তবে আমরা আহ্বান জানাব, অভিভাবকরা যেন দুপুর ২টার পরপরই তাদের বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। আর সিসিমপুরের যে বিষয়টি, তারা আমাদের কাছে এবার আবেদন করেনি। তবে আমরা অভিভাবকদের বলব, তারা শিশুদের বইমেলা নিয়ে আসেন এবং বাচ্চার পছন্দের বইগুলো যেন তারা কিনে দেন। খেলাটা হোক বইয়ের সঙ্গে।
সিসিমপুর না থাকায় বই বিক্রিতে প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিসিমপুর নেই বলে বিক্রিতে প্রভাব পড়বে এমনটা তো না, তবে আয়োজনটি থাকলে ভালো হতো।