নিবন্ধন পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ

নিবন্ধন পুনর্বহালসহ দলের সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল করেছে জামায়াতের ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচি থেকে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্য নেতারা অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আর একদিনও আজহারুল ইসলামকে তারা কারাগারের ভেতর দেখতে চান না।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত-

আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই : জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমাদের আর ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই। গতকাল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিনাদোষে ১২-১৩ বছর এ টি এম আজহারুল ইসলাম কারাগারের নির্যাতন ভোগ করছেন। আর ১৩টি মিনিট তিনি জেলের ভেতরে থাকুক সেটা আমরা চাই না। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই। আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নিবন্ধন অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে দিন। জালেম সরকার যা করেছে, আপনারাও কি তাই করবেন? নতুন বাংলাদেশে আমরা আর কোনো বৈষম্য দেখতে চাই না। আমরা বৈষম্য সহ্য করব না। আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি, যদি প্রয়োজন হয় রাজপথেই থাকব। আমরা যে রাজপথে থাকতে পারি সেটা জুলাই গণআন্দোলনে মানুষ দেখেছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। যুদ্ধ চলমান। রাজপথে জীবন দেওয়ার জন্য আমাদের হাজার হাজার ছাত্র-জনতা প্রস্তুত। সব ষড়যন্ত্র তারা ব্যর্থ করে দিয়েছেন।’

ঢাকার কর্মসূচিতে শফিকুর রহমান ছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মুহা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য।

চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, আজকে গোটা বাংলাদেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। আমরা বন্দিশালার তালা ভাঙতে চাই না। বিগত ১৫ বছর আমাদের রক্ত ঝরেছে, কারাবরণ ও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। বিরোধী দল দমন করার জন্য গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল। জামায়াতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিল। সাজানো মামলা এবং ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে তৎকালীন কথিত রায়ে এটিএম আজহারকে বন্দি রাখা হয়েছে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য অসংখ্যবার জেল খেটেছেন এটিএম আজহার। তিনি ১৩ বছরের অধিককাল কারাগারে বন্দি। এভাবে ফ্যাসিবাদের আমলে নির্যাতিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী অন্যায় ও অবিচারের কাছে মাথা নত করবে না। ন্যায়বিচারের জন্য ৫ আগস্টে ছাত্রজনতা রক্ত দিয়েছে। আমাদের আপনারা বাধ্য করবেন না। ৪৮ ঘণ্টার ভেতর জননেতা এটিএম আজহারকে মুক্তি দিতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে লালদীঘির মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল ফরিদপুর, বরিশাল, নড়াইল, চাঁদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ে এ দিন একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াত।