অমর একুশে বইমেলার ইতিমধ্যে ১৯ দিন পেরিয়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে, দর্শনার্থীর পদচারণ বাড়ছে বইমেলা প্রাঙ্গণে। তবে ব্যাপক লোকসমাগম হলেও বই কিনতে আসা ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। এবারের বইমেলায় আসা মানুষের অধিকাংশই দর্শনার্থী। তারা বইমেলায় এসে খুব কমই বই কিনছে। আসছে, ছবি তুলছে, পরে চলে যাচ্ছে। ফলে বইমেলায় কাক্সিক্ষত ক্রেতার উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে। গতকাল বুধবার বইমেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে এবং দর্শনার্থী, বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।
গতকাল বইমেলা ঘুরে অধিকাংশকেই শুধু আগত দর্শনার্থী মনে হয়েছে। দূর থেকে দেখে বইপ্রেমী মনে হলেও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর প্রস্থানের সময় তাদের হাতে কোনো বইয়ের ব্যাগ লক্ষ করা যায়নি।
তবে বইমেলায় এই বিপুল জনসমাগমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। তারা বলছেন, ছুটির দিনে বিক্রি কিছুটা বাড়ে। বেশিরভাগ দর্শনার্থীই বই হাতে নিয়ে স্টল বা প্যাভিলিয়নের সামনে ছবি তুলছে।
তাম্রলিপির এক বিক্রয়কর্মী জানান, বই নিয়ে ছবি তুলে রেখে চলে যাওয়াটা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এমনও ঘটছে, লেখক স্টলে এলে ছবি তোলার পাশাপাশি পাঠক ও দর্শনার্থীদের বই কিনতে অনুরোধ করছেন।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস লিমিটেডের বিক্রয়কর্মী ইফতেখার বলেন, ‘স্টলে এসে বইয়ের সঙ্গে, স্টলের সঙ্গে ছবি তুলে চলে যাচ্ছে। এটার একটা ভালো দিক যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইয়ের প্রচার হচ্ছে। তবে আমরা আরও বেশি অনুপ্রেরণা পেতাম, শুধু ছবি না তুলে যদি বই কিনত।’
রিকশা পেইন্ট করা কুঁড়েঘর স্টলের সামনে পাঞ্জাবি-শাড়ি পরে ছবি তোলা ও ভিডিও করার পর তা ফেসবুকে আপলোড করছে অনেকেই। এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বলে, কয়েক দিন এসেছি, বই কিনেছি দু-একটি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপডেট থাকতে বইমেলার ছবি ফেসবুকে আপলোড করতে হয়।
মেলায় বইয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে থাকা দর্শনার্থী সাব্বির হাসান বলেন, ‘এখন অনলাইনে সব বই পাওয়া যাচ্ছে। তাই মেলায় সেভাবে বই কেনা হয় না। তা ছাড়া, ছাত্র অবস্থায় হাতভর্তি বই কেনার সামর্থ্যও নেই। তাই একটা বই কিনেছি, ছবি তুলে কিছুক্ষণ পর চলে যাব।’
অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক জহুরা বেগম বলেন, ‘বই কেনার ক্রেতা নেই। বেশিরভাগ মানুষই মেলায় ঘুরতে আর সেলফি তুলতে আসে। বই বিক্রি হচ্ছে কম। তবে ছুটির দিনগুলোয় বইয়ের বিক্রি ভালো হয়।’
বাতিঘর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘এবার মেলায় বেশ লোকসমাগম হয়েছে, এটা ইতিবাচক। সবাই যে বই কিনবে, তা নয়। অনেকে বই দেখছে, এতে করে বইয়ের সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এরও একটা ইতিবাচক দিক আছে।’
গতকাল বুধবার মেলার ১৯তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭০টি। এ নিয়ে নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৬৮০টি। প্রতিদিন মেলা বেলা ৩টায় শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হয়। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বইমেলা শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হবে।