‘সবাই চুপ, যা আছে বের করে দে’ এ বলেই ছিনতাইকারী কজন বাসের ২৩ জন যাত্রীর কাছ থেকে চোখের পলকে ফোন ও ওয়ালেট নিয়ে গেল। জাস্ট দুই মিনিটের মধ্যেই চোখের সামনে এসব ঘটে গেল।’
প্রকাশ্যে দিনের বেলা রাজধানীর উত্তরায় ব্যস্ত সড়কে চলন্ত বাসে গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন নাফিসা মুমু নামে এক নারী। সেখানে ওই ভুক্তভোগী নারী পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তবে রাত পর্যন্ত এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদ আলী বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় এসে কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করেনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সূত্রে ঘটনা জানার পর সেখানে ফোর্স পাঠানো হয়। রাত পর্যন্ত গণছিনতাইয়ের বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ওই নারীর ভাষ্য, বুধবার সকাল ৮টার দিকে তিনি উত্তরা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। প্রথমে রিকশায় যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাবলিক বাস বেছে নেন। কিন্তু বাসে ওঠার পর নিমেষে পরিস্থিতি বদলে যায়।
তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বাসটি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আরও পাঁচ-ছয়জন যুবক সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে উঠে পড়ে। এরপর হঠাৎ তারা ছুরি বের করে চিৎকার করে বলে, ‘সবাই চুপ, যা আছে বের করে দে।’ মুহূর্তের মধ্যেই তারা বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, ওয়ালেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীরা এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাতও করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ছিনতাইকারীরা তাদের কাজ সেরে দ্রুত বাস থেকে নেমে যায়।
এ ঘটনার পর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং হতবাক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘বাসটি হাউজ বিল্ডিং থেকে আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার আগেই ছিনতাইকারীরা বেশ কয়েকজনের মোবাইল, ওয়ালেট ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত নেমে পড়ে। তাদের মধ্যে তিনজনের কাছে ছুরি ছিল।’
এ বিষয়ে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার ওসি শামীম আহমেদ দেশ রূপন্তরকে বলেন, ‘এটা গণছিনতাই কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই। শোনার পরই ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে পরিদর্শন গিয়ে বাসের চালক ও ভুক্তভোগী কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া কেউ থানায় এসে অভিযোগও দেননি এবং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া নারীকেও শনাক্ত করতে পারিনি। ভুক্তভোগী নারীকে পেলে সব তথ্য জানা যাবে।’
ভিক্টর পরিবহন বাসের মালিক ও চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাসের কোনো তথ্য পাইনি। এ ছাড়া ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও এমন কিছু পাইনি।’