প্রায় তিন বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু হয়। বিশ্ব সম্প্রদায় এ যুদ্ধের সূত্রপাতের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায় দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার রিয়াদে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে পথ খুঁজতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কিয়েভের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়াটাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি চাইলে আরও আগেই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত। ন্যাটোভুক্ত যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তারা ট্রাম্পের একক শান্তি উদ্যোগে উপেক্ষিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি শুনেছি তারা বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় হতাশ। কিন্তু তারা তিন বছর ধরে এবং তারও অনেক আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিল। এ বিষয়টি খুব সহজেই মীমাংসা করা যেত, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি ক্ষমতায় থাকলে ইউক্রেনের জন্য একটি চুক্তি করতে পারতাম। এতে তাদের প্রায় সব জমি থাকত, প্রায় সবকিছু অক্ষত থাকত। কেউ নিহত হতো না, কোনো শহর ধ্বংস হতো না। রিয়াদে বৈঠক বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী অনুভব করছেন। রাশিয়া এই নির্মম বর্বরতা বন্ধ করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেছেন, যেকোনো শান্তি চুক্তির আওতায় কিয়েভকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, রাশিয়ার তৈরি করা বিভ্রান্তিকর তথ্যের জগতে বাস করছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধের জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পাশাপাশি জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। জবাবে বুধবার কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, জনপ্রিয়তা নিয়ে আমি কখনো মন্তব্য করি না, বিশেষ করে নিজেরটা নিয়ে। কিন্তু সর্বশেষ জরিপেই দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ ইউক্রেনীয়র আস্থা আছে আমার ওপর। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে জেলেনস্কি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে এ যুদ্ধের কোনো সমাধান সম্ভব না।