সংকটের সময় পরিচিত কিছুর কাছে ফিরে যাওয়া স্বাভাবিক। যেমন পুরনো কাথা, প্রিয় খাবার, কিংবা জো রুট!
আগামী শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অভিযান শুরু করছে ইংল্যান্ড, তবে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নেই। শেষ চারটি একদিনের সিরিজে টানা হারের ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াই তাদের সামনে। তবে আশার দিক হলো, তাদের সবচেয়ে সফল ব্যাটার জো রুট এখন দলের সঙ্গে আছেন।
যিনি চলতি মাসে ভারতে হওয়া ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটে ফিরেছেন। অনেকে ভেবে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে রুট বলেন, 'আমি কখনো অবসর নিইনি। আমি কখনোই বলিনি যে এই ফরম্যাট খেলতে চাই না।'
ইংল্যান্ড দলের লাহোরের টিম হোটেলে বসে হাসতে হাসতে রুট গার্ডিয়ানকে জানালেন, তার ফেরার সিদ্ধান্ত কি অধিনায়ক জস বাটলার বা কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে কোনো বিশেষ আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়েছিল?
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, এর জন্য তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা লাগেনি। কোনো খেলোয়াড়েরই দলে জায়গা পাওয়ার অধিকার জন্মগতভাবে থাকে না।'
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইংল্যান্ডের একমাত্র বড় শিরোপা, যা এখনও তাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে নেই। পাশাপাশি, এটি ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে যাত্রার সূচনা। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় হতে যাওয়া সেই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই ইংল্যান্ড, যেখানে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন থাকবে তাদের সামনে।
রুট আগেই জানিয়েছেন, সেই বিশ্বকাপে খেলতে চান তিনি, যা তার ৩৭তম জন্মদিনের মাত্র এক মাস আগে শেষ হবে। রুট বলেন, 'স্পষ্টতই আপনাকে পারফর্ম করতে হবে, ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য অবদান রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, পিছিয়ে দিচ্ছেন না।'
রুট যোগ করেন, 'আমি কখনোই সামনে খুব বেশি তাকিয়ে পরিকল্পনা করি না। আমি এটা পর্যন্ত খেলব বা ওটা পর্যন্ত খেলব, এমন ভাবনাও আমার নেই। আপনি জায়গা অর্জন করতে হয় এবং সবসময় নিজের সেরাটা দিতে হয়।'
ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ব্যাটিং বিভাগ ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই ছন্দ হারিয়েছে, যার বাইরে নন রুটও। ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি ওয়ানডেতে গড়ে মাত্র ২৯.৯২ রান করেছেন, যা তার আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেকটাই কম। এই সময়ে তিনি কোনো শতকও পাননি। ভারতে অনুষ্ঠিত ২০২৩ বিশ্বকাপে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করলেও দলের ব্যর্থতার সঙ্গী হয়েছেন তিনিও।
এ বিষয়ে রুট বলেন, 'যদি কেউ বলে তার ক্যারিয়ারে কোনো অনুশোচনা নেই, তাহলে সে মিথ্যা বলছে।'
ভারতে ইংল্যান্ডের ব্যর্থতার পর সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন অভিযোগ করেছিলেন, ইংল্যান্ড যথেষ্ট অনুশীলন করেনি। তবে রুট একমত নন, 'তারা অনুশীলনে আসে না। তারা দেখে না আমরা কীভাবে কাজ করি, কেমনভাবে অনুশীলন করি।'
তবে রুট স্বীকার করেছেন, ৫০ ওভারের ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড এখনো ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ কমে যাওয়া এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতার গুরুত্ব কমে যাওয়ায় দলটি চাপের মুখে পড়েছে। রুট ২০২৩ সালেই বলেছিলেন, নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। তবুও তিনি আশাবাদী, দল ঘুরে দাঁড়াবে।
এবার বললেন, 'শুধু নতুন উপায়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আগের মতো সুযোগ হয়তো নেই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা আগের দলের মতো সফল হতে পারব না। আমাদের শুধু স্মার্ট চিন্তা করে দ্রুত সমাধান খুঁজতে হবে, যাতে বড় ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারি।'
রুট আশাবাদী, ইংল্যান্ডের দলে সঠিক মানসিকতা ও প্রতিভা রয়েছে, যা দিয়ে তারা আবারও শীর্ষে ফিরতে পারে।