ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ছাত্রলীগের কর্মীকে মারধর করার ভিডিও করায় সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের ওপর বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ভেঙে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টায় উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে জেলার বিজয়নগরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় ছুরিকাঘাতে দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর উপজেলার শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। রাতে উপজেলা নাগরিক কমিটির ব্যানারে কয়েকজন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। সে সময় নাগরিক কমিটির সঙ্গে জিএম সোহেল নামে একজন উপস্থিত ছিলেন। তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগকর্মী অবহিত করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নানসহ স্থানীয় যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সোহেলসহ দুজনকে মারধর শুরু করেন। পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময়ও সোহেলকে মারধর করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মারধরের ঘটনা ভিডিও করা শুরু করেন। তা দেখে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিনের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক আবদুল্লাহকে মারধর করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, নাগরিক কমিটির ব্যানারে দুজন ছাত্রলীগকর্মী ফুল দিতে শহীদ মিনারে আসেন। সে সময় বিএনপিসহ যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মী তাদের মারধর করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ঘটনা ভিডিও করতে গেলে রড দিয়ে আঘাত করেন বিএনপির নেতারা।
আমার ক্যামেরা ভেঙে ফেলে মোবাইল ফোন তারা ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অবশ্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবদুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি শুনেছি। আমি শহীদ মিনারে ছিলাম আর ঘটনা ঘটেছে বাইরে। এ বিষয়ে বশিরই ভালো বলতে পারবেন।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. খায়রুল আলম বলেন, নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সম্মিলিতভাবে ফুল দিয়ে শহীদ মিনার থেকে চলে যায়। পরে নাগরিক কমিটির একাংশের নেতাকর্মীরা ফুল দিতে আসে। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগকর্মী জিএম সোহেলও ছিল। তাকে দেখে উপজেলা বিএনপি বিরোধিতা করে। যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হট্টগোল ও হাতাহাতি শুরু করে। ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিক মাহমুদকে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী মারধর করে।
বিজয়নগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় ছুরিকাঘাতে দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের পেটুয়াজুরি গ্রামের মো. সাজু মিয়ার ছেলে মো. বেলাল (৩৮) এবং ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মহরম আলীর ছেলে জীবন আলী (১৭)। তারা বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা পরিষদের চত্বর শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও। পরে সেখানে ফুল দিতে আসেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা দুটি ভাগে আসেন। একপক্ষে ছিলেন জমির হোসেন দস্তগীর ও ইমাম হোসেনের সমর্থকরা। অন্যপক্ষে ছিলেন মো. মহসিন ভূঁইয়া ও শাহ আলম মিয়ার অনুসারীরা। কে আগে ফুল দেবে তা নিয়ে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় চাপাতির আঘাতে দুজন আহত হয়। তারা দুজনই মহসিন-শাহ আলমের সমর্থক বলে জানা গেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জমির হোসেন দস্তগীর বলেন, ছাত্রদলের নেতারা ফুল দিতে গেলে কবির গ্রুপের অপেক্ষা না করে তারাও একই সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নিয়ে ফুল দিতে যায়। তখন ছাত্রদল প্রতিবাদ করে এতে হাতাহাতি হয়। একজন আহত হয়েছে শুনেছি।
বিজয়নগর থানার ওসি মো. রওশন আলী বলেন, আমি ও আমার অফিসাররা উপস্থিত থেকে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তাদের শহীদ মিনার থেকে বের করে দিয়েছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।