চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষ ম্যাচেই অবসর ঘোষণা করতে পারেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচটিই হতে পারে এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মধ্যে যেকোনো একজনের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ মঞ্চ।
বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একজন এ ম্যাচের পর গুডবাই বলবেন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর আলোচনা হয়েছিল। যদিও দুই সিনিয়র তাদের অবসর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বিসিবিকে জানাননি বলে জানা গেছে। তরুণদের সুযোগ করে দিতেই হয়তো কেউ একজন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষ ম্যাচে দলকে বিদায় বলবেন।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যানস ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটের হার, এরপর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ উইকেটে। দুটি ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট। মুশফিক দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ছিলেন সম্পূর্ণ নিস্প্রভ—ভারতের বিপক্ষে শূন্য, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২ রান। বিপিএলেও ছিলেন বিবর্ণ, ফরচুন বরিশালের হয়ে ১৪ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৮৪ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৮। এতেও জাতীয় দলে তিনি ‘অটোমেটিক চয়েজ’! অথচ বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের মতো তরুণরা জায়গা পাননি দলে।
অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচ খেলেননি ইনজুরির কারণে। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেও ব্যর্থ—১৪ বলে ৪ রান। তার আউটটি ছিল আরও হতাশাজনক। নিউজিল্যান্ডের অফস্পিনার ব্রেসওয়েলের সহজ টোপে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দেন, যা ‘টেলএন্ডার শট’ বললেও ভুল হবে না।
পারফরম্যান্স যখন এমন, তখনই আলোচনায় তাদের অবসর প্রসঙ্গ। শেষ ম্যাচে তাই যেকোনো একজন নিতে পারেন বিদায়।
এদিকে আগামী এপ্রিলের জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ ছিল, যা বিসিবির অনুরোধে বদলে গেছে টেস্ট সিরিজে। তবে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ‘বিদায়ী ম্যাচ’ আয়োজনের জন্য বিসিবি একটি ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে মিরপুরে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
আপাতত দেখার বিষয়, রাওয়ালপিন্ডিতেই বাজে কিনা তাদের কোনো একজনের বাইশ গজের শেষ ঘণ্টা!