দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবেন না : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দেশের ক্ষমতায় বসিয়েছি। তিনি একজন নোবেলজয়ী। যে ছাত্ররা আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়েছে তারা হাসিনার আমলে ভোট দিতে পারেনি। কিছু কিছু দল চায় আগে স্থানীয় নির্বাচন। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে দেশে যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি না করা হয়। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করি, দেশকে আর নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে  দেবেন না। আমরা ১৫টি বছর আন্দোলন করেছি। বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে কাজ হবে না। আমরা নাকি সংস্কার চাই না। আরে সংস্কার তো আমরাই দেখিয়েছি।’

গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকার ধামরাই পৌরসভার যাত্রাবাড়ী মাঠে বিএনপির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সব সময় সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ক্ষমতায় থেকে নতুন দল গঠন করতে পারবেন, আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু ফ্যাসিস্টদের নিয়ে দল গঠন করলে মানুষ চিট পার্টি বলবে। আমরা সব সময় সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। শুরু থেকেই সহযোগিতা করে আসছি। আমাদের শত্রুরা সব সময় টোপ ফেলে বসে আছে। যে কোনো সময় আমাদের ক্ষতি করবে। সে দিকে খেয়াল রাখবেন। সব সময় মিথ্যা বয়ানের বিরুদ্ধে জবাব দেবেন। জনগণকে সুসংগঠিত করেন। তাদের কাছে যান। আপনারা অনেক কষ্ট করে এসেছেন। ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সরকারকে সব সময় আমরা সকলেই সহযোগিতা করব। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেব।

তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে আজ আমরা চিন্তাগ্রস্ত। চাল ৮০ টাকা কেজি। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে গেলে সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে কাছে আনতে হবে। অনেকেই মনে করেন বিএনপি চাঁদাবাজি করছে। মিথ্যে কথা। আওয়ামী লীগ এই মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। বিএনপির মধ্যে কোনো চাঁদাবাজি নেই। ভোটের দিন মানুষ যেন বলতে পারে আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। বিএনপিকে কোণঠাসা করার জন্য ফ্যাসিবাদরা এখনও সক্রিয়। কিন্তু পারবে না। যা ১৬ বছরে পারেনি। এদেশের ছাত্র-জনতা হাসিনা সরকারকে তার উপযুক্ত জবাব দিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নামে এখনো মামলা শেষ হয়নি। অনতিবিলম্বে আমাদের নামে সকল মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা শেষ করেন। দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিএনপি দিয়েছিল। ২০৩০ সালে বিএনপি কি করবে তারও দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তারেক জিয়ার ৩১ দফার মধ্যে সকল সংস্কার রয়েছে। বিএনপিকে ইচ্ছে করলেই কখনো ঠেকানো যায় না। হাসিনা চেষ্টা করেছে, এরশাদ চেষ্টা করেছে কিন্তু বিএনপিকে কিছুই করতে পারেনি। হাসিনা সরকার পালিয়ে গেছে বলেই মনে করবেন না ফ্যাসিস্ট শেষ হয়েছে। যেদিন ভোট দিতে পারবেন সেদিন মনে করতে হবে আমরা ফ্যাসিস্ট মুক্ত। আমরা ৩১ দফার মধ্যে এক সরকার দুই বারের বেশি নয় এমন সংস্কারের কথা বলে যাচ্ছি। এতে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে আর সেখান থেকেই দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। দেশকে রসাতলে নিয়ে গিয়েছিল এই স্বৈরাচার সরকার।’

ফখরুল বলেন, আমরা আগামীতে একটা সুন্দর নির্বাচন চাই। ১৫টি বছর হাসিনা সরকার আমাদের ওপর যে জুলুম অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে একটি গণতান্ত্রিক দলের ওপর এত নির্যাতনের নজির নেই। গুম হত্যায় মেতেছিল জালিম হাসিনা সরকার। এই জুলুম থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও বাদ দেয়নি। ৬ বছর জেলহাজতে, এমনকি বাড়িতে রেখেও নির্যাতন করেছে। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করেছিল। এখন তাকে দেশছাড়া হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবিতে, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এবং ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জনদাবি পূরণ করতে হবে। জনগণকে ভয় দেখিয়ে নয়, তাদের কাছে গিয়ে ভালোবাসা দিয়ে নিজেদের কাছে আনতে হবে। তারেক জিয়ার ৩১ দফা পাড়া-মহল্লায় জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে।