২০০৭ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ৮২ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহালে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ৮৫ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। এ রায়ের ফলে ৮২ জন চাকরিতে পুনর্বহাল হচ্ছেন। আর মারা যাওয়া ৩ জনের উত্তরাধিকারীরা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাদি পাবেন। আপিল বিভাগের ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুতরা একটি আপিল ও চারটি রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেছিলেন। এসব আবেদনের ওপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি (গতকাল) দিন ধার্য করে।
আদালতে চাকরিচ্যুতদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, সালাহ উদ্দিন দোলন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল বিভাগ সবাইকে সব সুযোগ- সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করেছে। তবে যে সময়টা ওনারা কর্মরত ছিলেন না সেটা সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। এ সময়টাকে বলা হবে এক্সট্রা অর্ডিনারি লিভ, বাট উইদ পে। আর যে তিনজন মারা গেছেন, আবেদন সাপেক্ষে তাদের আইন অনুযায়ী দরখাস্ত দাখিল সাপেক্ষে উত্তরাধিকারীরা সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পিএসসির মাধ্যমে (সরকারি কর্ম কমিশন) ৩২৭ জনকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অস্থায়ীভাবে নির্বাচিত করা হয়। পরে এ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ওঠার পর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৩২৭ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এদের মধ্যে ৮৫ জনকে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর চাকরিচ্যুত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তা খারিজ করে রায় দেয় সংশ্লিষ্ট আদালত। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন চাকরিচ্যুতরা।
প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল আপিল মঞ্জুর করে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দেয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত একই বছরের ২৯ এপ্রিল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৮৫ জনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দেয়। এরপর এ রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন চাকরিচ্যুতরা।