খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হল ছেড়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার আগেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি আবাসিক হল ছেড়ে যান। তবে বিভিন্ন হলে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম যেহেতু বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা হল ভ্যাকেন্ট করেছি। হলে কোনো রান্না হবে না। আশপাশের হোটেলও বন্ধ থাকছে। তাছাড়া প্রাচীরগুলোও ভাঙা, নিরাপত্তাও নেই। যেসব শিক্ষার্থী হলে রয়েছে, তাদের চলে যাওয়ার জন্য জোর করা হবে না; তাদেরকে বোঝানো হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুয়েট কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের ৯৯তম (জরুরি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যলয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ও একই সঙ্গে সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন।
গতকাল সকাল ৮টার দিকে কুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করছেন। আশিকসহ হল ত্যাগ করা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, যেহেতু প্রশাসন হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেহেতু নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং বাড়িতে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা লাঘব করতে আমরা হল ত্যাগ করছি। তবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যের পদত্যাগসহ আমাদের যে ৬ দফা দাবি রয়েছে, সেই দাবির আন্দোলন চলমান থাকবে।
তবে, মো. ওবায়দুল্লাহসহ কিছু শিক্ষার্থী গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত হল ছেড়ে যাননি। শহীদ স্মৃতি হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ বিকেল ৫টায় জানান, তার হলে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সাতটি হল মিলে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। সামনে ঈদ, অনেকের আর্থিক অবস্থা ভালো না। কেউ কেউ টিউশনি পেশার সঙ্গে জড়িত। সে কারণে নির্দেশনার পরও এসব শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে যাননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, কুয়েটের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি হলে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসে থাকেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তবে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল ও বহিরাগতদের সঙ্গে কুয়েট শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সেই থেকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণবিষয়ক পরিচালকের পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা, সংঘর্ষে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।