টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে রাজধানীর জিগাতলায় বিজিবি সদর দপ্তরের সামনে অবস্থানের পর চাকরি পুনর্বহাল ও পেনশনের বিষয়ে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি মহাপরিচালকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে জিগাতলায় বিজিবি সদর দপ্তরের চার নম্বর ফটকের সামনে তিন দফা দাবিতে অবস্থান নিয়েছিলেন ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চাকরিচ্যুত শতাধিক সাবেক বিজিবি সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সময় পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে আন্দোলনকারীরা মূল সড়কে অবস্থান না নেওয়ায় যান চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি।
পরে দুপুরে বিজিবি মহাপরিচালকের আহ্বানে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সদর দপ্তরে প্রবেশ করে। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিরা চাকরিচ্যুত সদস্যদের পুনরায় আবেদনের সুযোগ এবং বিষয়টি আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়।
বৈঠক শেষে ‘চাকরি পুনর্বহাল কমিটি’র সমন্বয়ক শাহিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। চাকরিচ্যুত সবাই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে পুনরায় আবেদন করতে পারবে। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অবস্থান কর্মসূচির সময় চাকরিচ্যুত সদস্যরা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, সদস্যদের সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। পুনর্বহাল সম্ভব না হলে সরকারি সব সুবিধাসহ সম্পূর্ণ পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে। আর চাকরিচ্যুতির জন্য দায়ী আইনি কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার আনতে হবে।
চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্যরা যা বললেন : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক বিজিবি সদস্য অভিযোগ করেন, ‘আমরা পূর্ববর্তী (আওয়ামী লীগ) সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
একই ধরনের অভিযোগ করেন সাবেক বিজিবি সদস্য আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক কারণে তাকে বাহিনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।’
হামিদুর রহমান নামের এক সাবেক সদস্য বলেন, ‘নিবন্ধনহীন সিম ব্যবহার করে সীমান্ত অপরাধীদের ধরতে গিয়েছিলাম। অথচ সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে আমাকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ আরেক সদস্য বলেন, ‘১৫ আগস্ট বিয়ে করায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন।’ এ ছাড়া অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অধিকাংশেরই দাবি, রাজনৈতিক কারণেই তাদের চাকরি গেছে।
এদিকে কর্মসূচি স্থগিত হলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, আশ্বাসের পর তা বাস্তবায়ন না হলে আবার আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত তারা।