মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভাঙ্গার ওসি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল গত বুধবার রাতে ভাঙ্গা থানায় কর্মরত অবস্থায় তাকে আটক করে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শৈলেন চাকমা।

তিনি বলেন, ‘ওসি শফিকুল ইসলামের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা রয়েছে। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি আমরা আজ রাতে (বৃহস্পতিবার) জানতে পেরেছি।’

জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ভাঙ্গায় যোগদানের আগে হবিগঞ্জ ডিবিতে ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি করা হয়েছিল। গাজীপুরে তিনি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কলেজছাত্র মো. হৃদয় হত্যা মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম।

এদিকে এই পুলিশ কর্মকর্তা গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ মডেল থানায় হওয়া একটি মামলারও ৪ নম্বর আসামি। ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট হবিগঞ্জ জেলা শহরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেড় বছর পর মামলাটি করেন হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আব্দুল আউয়াল।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘পুলিশের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি ছোড়েন এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপসহ লাঠিপেটা করেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে গ্রেপ্তার করেন। আহতদের মধ্যে অনেকে পালিয়ে গেলেও কয়েকজন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছের বাসভবনে আশ্রয় নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।’

বিএনপি নেতা এস এম আব্দুল আউয়াল মামলায় অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি মামলাটি করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাঙ্গার ওসি শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে ফরিদপুর থেকে তাকে ঢাকার ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে।’