শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বেশ বড় একটি ছুটি পেয়ে তোমরা এখন বাড়িতে আনন্দে সময় কাটাচ্ছ। কিছুদিন পরেই দেখবে স্কুল, ক্লাস, বন্ধুদের ফেলে এই অফুরন্ত ছুটি ভালো লাগছে না। একঘেয়ে লাগতে শুরু করবে। ছুটির এ সময়কে কাজে লাগিয়ে কাটাতে পারো একঘেয়েমি। ছুটির সময়কে কাজে লাগানোর কয়েকটি বুদ্ধি দিয়েছেন ফয়জুর ইসলাম রিংকু
ছুটির পড়ার রুটিন করো
অধিকাংশ স্কুলেই ছুটির সঙ্গেই দিয়ে দিয়েছে ছুটির পড়া। ছুটির তুলনায় পড়ার পরিমাণ কমই বলা যায়। তবে সময়মতো না পড়লে ছুটির শেষে সব পড়া একসঙ্গে পাহাড়ের সমান বোঝা বলে মনে হবে। তাই ছুটির পড়ার একটি রুটিন করে অল্প অল্প করে কিন্তু প্রতিদিন পড়তে শুরু করো।
পছন্দের বই পড়ো
স্কুল চলার সময়ে পাঠ্যক্রমের বাইরের বই পড়তে দেখলে বাবা-মা কি বকাটাই না দিতেন, তাই না? এই ছুটির সময়ে গল্পের বই পড়লে কিন্তু তোমাকে একদম বকবে না বাবা-মা। পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল অভিভাবকের ভয়ে যে বইগুলো পড়তে পারোনি সেগুলো পড়তে শুরু করো। সময় কাটবে চমৎকার। তা ছাড়া তোমরা সবাই নিশ্চয়ই বইমেলা থেকেও বেশ কিছু বই সংগ্রহ করেছ। নতুন বইগুলো পড়ার এর থেকে ভালো সময় আর পাবে না।
বেড়াতে যাও
বেড়াতে যাওয়ার জন্য ছুটির থেকে ভালো সময় আর হয় না। তা ছাড়া এখনকার এই না গরম, না ঠা-া, না বৃষ্টি, না শীত আবহাওয়া বেড়ানোর জন্য খুবই উপযুক্ত। বাবা-মাকে বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে বেড়াতে যেতে পার। আর যদি একান্তই বাবা-মা সময় দিতে না পারেন তাহলে ঘুরে আসতে পার আত্মীয়-স্বজনের বাসা থেকে। অবশ্যই অনুমতি নিয়ে, কেমন?
গোছাও নিজের ঘর
নিজে ঘরটি পরপাটি করে গোছানোর সময় করতে পারোনি এতদিন? এখনই সময়। কাজে লেগে পড়ো। আগের বছরের বইপত্র ঝেঁটিয়ে বিদায় করে, শীতের পোশাকগুলো ধুয়ে, উপযুক্তভাবে আলমারি বা বাক্সবন্দি করে পরিপাটি করে ফেল নিজের ঘরটাকে। পড়ার টেবিল-চেয়ার বা বিছানা যদি নিজের ইচ্ছামতো স্থান পরিবর্তন করতে চাও সেটিও সেরে নাও এই অবসরে।
নতুন কিছু শেখ
ছুটির সময়টি কাজে লাগাতে পারো নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে। সেটি হতে পারে নতুন একটি ভাষা শেখা, কম্পিউটার শেখা, দাবা শেখা কিংবা ট্রেকিং। স্কুল খোলার পরে বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করবে, ছুটিতে কী করলি তখন উত্তর দেওয়ার জন্য একটি যুৎসই জবাব তো চাই না কি?
প্রতিবেশীর সঙ্গে পরিচিত হও
নিজের প্রতিবেশীদের সবাইকে কি তুমি চেন? যদি না চেন তাহলে এই ছুটিতে তাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তাদের বাসায়ও নিশ্চয় তোমাদের বয়সী শিশুরা রয়েছে। তাদেরও চলছে ছুটি। তোমরা একসঙ্গে খেলাধুলা করতে পার। দেয়াল পত্রিকা বের করতে পার। রোজার মাসে ইফতারি পাঠাতে পার। সংযম আর সম্প্রীতির এই মাসে গড়ে তুলতে পারো মৈত্রীর বন্ধন।