নির্বাচন বিলম্ব হলে অস্থিরতা বাড়তে থাকবে : সালাহউদ্দিন

প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করুন। সেই দায়িত্ব বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর তাদের ওপর ন্যস্ত করেছে। আমরা যদিও ইনিয়ে-বিনিয়ে আশ্বস্ত হয়েছি, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সমস্ত কর্মকান্ড সাজাচ্ছেন। কিন্তু সেই কর্মকান্ডগুলো জনগণের সামনে প্রকাশিত নয়। সেই কর্মকান্ড জনসমক্ষে প্রকাশিত ও দৃশ্যমান হতে হবে যে, আমরা আসলেই সেদিকে যাচ্ছি কি না। কারণ যত দীর্ঘায়িত হবে এই গণতন্ত্রের উত্তরণের যাত্রাপথটা, ততবেশি বিভিন্ন ধরনের অস্থির অবস্থা সৃষ্টির সুযোগ পাবে পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরা। সে সময়টা যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেটিই হচ্ছে আমাদের প্রস্তাব।’

গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা, বাংলাদেশ’র উদ্যোগে ‘মানবাধিকার নিশ্চিতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন এ কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন খান।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরাই সবচেয়ে আগে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। তখন সরকার কীভাবে যাবে আমরা জানতাম না। আমরা আরও প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ফ্যাসিবাদ পতনের পরে আমরা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে লিপ্ত, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমরা যদি জয়ী হই, তাহলে সবাইকে নিয়ে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব, একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য গণতান্ত্রিক সংস্কার করব।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বাজারের অবস্থা ভালো না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস। আমরা যদি শুধু শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ঘাঁটি আর মানুষের পেটে যদি ভাত না থাকে, তাহলে মানুষ সরকারের ভালো কর্মকান্ডকেও কিন্তু সমালোচনা করবে। তারা আগেকার সরকারের সঙ্গে আপনাদের তুলনা করতে শিখবে। সেটা আমরা চাই না। আমরা সর্বতোভাবে সরকারকে সহযোগিতা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে সংস্কারগুলো নির্বাচনের জন্য আমাদের আগে বাস্তবায়ন করা দরকার, সেটার ভেতরে একটা জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি হোক। সেটা বাস্তবায়ন করি এবং একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রদান করি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতি আশ্বস্ত হোক। কিন্তু এখানে আমাদের যত দিন যাচ্ছে, তাতে আমাদের মনে হচ্ছে এ যেন গণতন্ত্র উত্তরণে পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা যায়, সেজন্য কিছু কিছু কূটকৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেটা থেকে আমরা যেন বিরত থাকি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শুধু আয়নাঘরের কথা শুনেছেন বা গুম করার কাহিনি শুনেছেন। যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। বিভিন্ন ধরনের কথা হয়তো আপনারা শুনে থাকতে পারেন। কিন্তু যা শুনেছি, তার যদি বিন্দুমাত্রও সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের মতো এ রকম বর্বর জঘন্যতম হত্যাকান্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম-খুনের ইতিহাস হয়তো আফ্রিকার জঙ্গলেও কোনো দিন হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে রকম একজন স্বৈরশাসক, গণহত্যাকারী আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনাকে এখনো আমরা অনুশোচনা করতে দেখিনি। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে এখনো পর্যন্ত গণহত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে তারপর বাংলাদেশে রাজনীতি করবে এই কথা বলতে শুনিনি। এটা ভাবতে অবাক লাগে। উল্টো তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সাধারণ নাগরিকরাই যেন অপরাধ করেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে ও আলী আকবর সিরাজীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, আবদুস সালাম, নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।